Bartaman Logo
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোমবাতি ও মোবাইল ফোনের আলোয় চিকিৎসা হাসপাতালে, হাসপাতালে লোডশেডিং, বিকল জেনারেটর

হাসপাতালের এমার্জেন্সি থেকে ওয়ার্ড—সব জায়গাতেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথাও মোমবাতির আলো, কোথাও মোবাইলের টর্চ।

মোমবাতি ও মোবাইল ফোনের  আলোয় চিকিৎসা হাসপাতালে, হাসপাতালে লোডশেডিং, বিকল জেনারেটর
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাসপাতালের এমার্জেন্সি থেকে ওয়ার্ড—সব জায়গাতেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথাও মোমবাতির আলো, কোথাও মোবাইলের টর্চ। সেই আলোতেই রোগী দেখতে হল চিকিৎসক-নার্সদের। শনিবার সন্ধ্যায় ঘুসুড়ির টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিংয়ের জেরে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়। বন্ধ হয়ে যায় লিফটও। ফলে রোগী থেকে তাঁদের আত্মীয়, চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী, চরম সমস্যায় পড়েন সকলেই। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজকর্ম কার্যত থমকে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার দুপুরে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় জেনারেটর ভ্যান।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের নিজস্ব জেনারেটরটি খারাপ। নিয়মিত মেনটেন্যান্স না-হওয়ায় প্রয়োজনের সময় সেটি ঠিকমতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল না। শনিবার সন্ধ্যায় আচমকা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর তারই জেরে বিপত্তি আরও বাড়ে। জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড অন্ধকারে ডুবে যায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগী দেখার পাশাপাশি মোবাইলের আলোতেও কাজ চালাতে হয় চিকিৎসক ও নার্সদের। এর মধ্যেই এক রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। 
এক রোগীর আত্মীয়ের কথায়, বিদ্যুৎ না-থাকলেও চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পরিষেবা চালানো অত্যন্ত কঠিন। 
আরেক রোগীর আত্মীয় বলেন, হাসপাতালের অন্ধকার করিডোর দিয়ে যাতায়াত করতেও ভয় লাগছিল। হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার কেন্দ্রে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হওয়া উচিত। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সংকটজনক রোগীর ক্ষেত্রে বড়ো বিপদ ঘটতে পারে।
শনিবারের ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। শেষে এদিন দুপুরে ভাড়া করা ২৫০ কেভির জেনারেটর ভ্যান হাসপাতালে পৌঁছয়। হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত জানান, শনিবার প্রায় একঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। জেনারেটর খারাপ থাকায় পরিষেবা ব্যাহত হয়। ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না-হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। 
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, হাসপাতালের ভিতর-বাইরের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেই অর্থে বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোও উন্নত করা হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানান, খবর পাওয়ামাত্রই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য হাসপাতালেও যাতে এমন পরিস্থিতি না-হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ