নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মদ্যপ স্বামীকে সামলানো পুলিসের কাজ নয়। মাতাল স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া এক স্ত্রীর আবেদন খারিজ করে এ কথা জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ, ‘পুলিস এভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না। এটা পুলিসের কাজ নয়।’ দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি থানা এলাকার বাসিন্দা স্ত্রীর অভিযোগ, ২০১৮ সালের মে মাসে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দু’মাসের পর থেকেই তাঁর আসল চেহারা সামনে আসে। দিনভর মদে ডুবে থাকেন স্বামী। বিয়ের পর একাধিকবার অত্যাচার চালিয়েছেন। তবে সবকিছু মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ২০২০ সালে তাঁদের যমজ পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের পর ভেবেছিলেন, এবার হয়ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। উল্টে অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে। বাধ্য হয়ে নিজের নামে থাকা ফ্ল্যাট ছেড়ে জন্মদাত্রী মায়ের কাছে চলে আসেন। বাধ্য হয়ে এখন সেখানেই থাকছেন। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। মদ্যপান করে মায়ের ফ্ল্যাটে এসেও অত্যাচার চালাচ্ছেন স্বামী। দুই সন্তানকে নিয়ে কোনওদিন চলে যাচ্ছেন। তাদের রাস্তায় একা ছেড়ে দিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে অত্যাচারের মাত্রা দিচ্ছেন বাড়িয়ে। এমনকি ফ্ল্যাটে চড়াও হয়ে মাকেও বেধড়ক মেরেছে। শিশুদের দুধ খাওয়ানোর সময়ও তাঁকে রেয়াত করেনি বলে মামলার বয়ানে দাবি করেছেন ওই মহিলা। বাধ্য হয়ে মদ্যপ স্বামীর কাছ থেকে সুরক্ষা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
Advertisement
সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে এজলাসে উপস্থিত রাজ্যের আইনজীবী দাবি করেন, মামলাকারী স্বামীর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ করছেন ঠিকই, কিন্তু এ বিষয়ে পুলিস কিছুই জানে না। নেতাজি নগর থানা ও পাটুলি মহিলা থানার দু’টি রিপোর্ট উল্লেখ করে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, পুলিসে তিনি কার্যত কোনও অভিযোগই করেননি। উল্টে পুলিসের কাছে জানিয়েছিলেন, ‘দুই বাচ্চা সহ থাকছি। স্বামীর বিরুদ্ধে এই মূহূর্তে কোনও অভিযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করতে চাই না।’ মামলাকারীর আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, পাটুলিতে যে ফ্ল্যাট রয়েছে সেটি মামলাকারীর নামে। প্রতি মাসে তাঁকে ইএমআই দিতে হয়। স্বামী মদ্যপ অবস্থায় অত্যাচার করছে। বাচ্চাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এই বক্তব্য শুনেই বিচারপতি বলে ওঠেন, ‘কেন হাইকোর্টে এসেছেন। এখানে হাইকোর্ট কী করবে। বাসস্থান, বাচ্চাদের অভিভাবকত্ব এসবের বিচার কি পুলিস করবে? তাহলে পুলিসের কাছে কেন অভিযোগ জানাচ্ছেন না? আদালত কি অনুভূতি বা সহানুভূতিতে চলে? তাহলে আইনের কী হবে? কেন ৪৯৮এ ধারায় মামলা দায়ের করছেন না?’ এরপর বিচারপতি নির্দেশে জানিয়ে দেন, সুরাহা পেতে মামলাকারীকে ‘প্রোটেকশন অফ উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আইনের সঠিক ধারায় আবেদন জানাতে হবে। আবেদনের পর নিম্ন আদালত ১০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করবে।



