Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’য় ৬২ কোটি! শুধু শংসাপত্র ছাপাতেই বছরে ১ কোটি ব্যয় কেন্দ্রের 

মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’য় ৬২ কোটি! শুধু শংসাপত্র ছাপাতেই বছরে ১ কোটি ব্যয় কেন্দ্রের 
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি: বক্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্রোতার আসনে সারা দেশ থেকে আসা পড়ুয়ারা। পরীক্ষা প্রস্তুতি সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে হাল্কা ছলে কয়েক ঘণ্টার অনুষ্ঠান। পোশাকি নাম ‘পরীক্ষা পে চর্চা’। সেখানে আগে থেকে নির্দিষ্ট করে রাখা জনাকয়েক পড়ুয়ার প্রশ্নের জবাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। ফি বছরে মাত্র একটি অনুষ্ঠান! বিগত তিন বছরে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে ৬২ কোটি টাকা খরচ করেছে মোদি সরকার! আর সেই অনুষ্ঠানে  অফলাইনে বা অনলাইনে যে পড়ুয়ারা হাজির থাকত, তাদের কাছে পৌঁছে যেত মোদির মুখাবয়ব সম্বলিত একটি শংসাপত্র। সেই শংসাপত্র ছাপতে প্রতি বছর কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। আরটিআইয়ে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনুষ্ঠানের নামে এহেন খয়রাতি কেন? প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে অভিভাবকরা। তাঁদের বক্তব্য, স্কুল থেকে গবেষণাস্তর পর্যন্ত স্কলারশিপ দেওয়া বন্ধ রেখেছে মোদি সরকার। শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে নামমাত্র। শিক্ষার অধিকার আইনি স্বীকৃতির পরও, বহু স্কুলে এখনও প্রাথমিক পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এই পরিস্থিতিতে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র বিলাসবহুল আয়োজনের যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা। তাঁদের একাংশের মতে, মোদির ‘গতবাঁধা আত্মপ্রচারমূলক’ এই অনুষ্ঠানের পিছনে টাকা না ঢেলে, স্কলারশিপ দেওয়া হলে আখেরে পড়ুয়াদেরই লাভ হতো। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, প্রথমবার দিল্লির বুকে এই অনুষ্ঠান হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেবছরের খরচের হিসেব শিক্ষামন্ত্রকের তরফে মেলেনি। তবে পরবর্তী ছ’বছরে সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে ৭৮ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। তার মধ্যে বিগত তিন বছরেই ব্যয় ৬২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র প্রথম বছর থেকে অংশগ্রহণকারীদের প্রধানমন্ত্রীর লেটারহেডে শংসাপত্র পাঠানো শুরু হয়। সে বাবদ এখনও পর্যন্ত কত খরচ হয়েছে? চলতি বছরের গত ১৭ জানুয়ারি আরটিআই অ্যাক্ট-২০০৫’এর ভিত্তিতে ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের (এনবিটি) কাছে তা জানতে চেয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর বাসিন্দা অজয় বাসুদেব বোস। গত ২৭ জানুয়ারি এনবিটি’র অ্যাপিলেট অথরিটি রাকেশ কুমার অজয় বাসুদেবকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের জন্য শংসাপত্র ছাপাতে এখনও পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ নিয়ে নানা সমালোচনা পর্বে কেন্দ্র খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পর্বেই ২০২৩-২৪ সালে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে খরচ হয়েছিল আকাশছোঁয়া ১৬ কোটি টাকা! এখানেই শেষ নয়, আরটিআইয়ের তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এ বাবদ বরাদ্দ বেড়েছে ১৭৫ শতাংশ!
পড়ুয়াদের স্কলারশিপ বন্ধ করে এহেন খরচে বেজায় ক্ষুব্ধ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত রাজধানী কলেজের অধ্যাপক রাজেশ ঝা। তাঁর এক স্কুল পড়ুয়া মেয়েও রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে রাজেশবাবু বলেন, স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে এনসিইআরটি আয়োজিত ন্যাশনাল ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার প্রবল আগ্রহ ছিল। আর্থিক সাহায্যও মিলত। তার থেকেও উচ্চ শিক্ষার পথে উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস জোগাতে বিশেষ কার্যকরী ছিল এই পরীক্ষা।  কিন্তু, তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। আর এইভাবে অর্থের অপচয়!
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ