Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

মোদির ভারতে রেল ইঞ্জিন দুর্নীতি, কয়েক কোটির হিসেব বহির্ভূত পেমেন্ট, সংসদে রিপোর্ট পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির

মোদির ভারতে রেল ইঞ্জিন দুর্নীতি, কয়েক কোটির হিসেব বহির্ভূত পেমেন্ট, সংসদে রিপোর্ট পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ‘আরও আধুনিক। আরও উন্নত।’ ২০১৯-২০ আর্থিক বছর থেকে রেলের ডিজেল ইঞ্জিনের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে শুধুই ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এমন গালভরা দাবি করেছিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত রেলের বিভিন্ন লোকোমোটিভ কারখানায় যত ডিজেল ইঞ্জিন তৈরি হয়েছে, তাতে কি মিশেছে দুর্নীতির গন্ধ? কারণ, মোদি জমানাকেই কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। গত ১২ ডিসেম্বর সংসদে পেশ করা তাদের রিপোর্টে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদির প্রথম ইনিংসকে। রেল ইঞ্জিন দুর্নীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে সেখানেই। বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার হিসেব বহির্ভূত পেমেন্টের হদিশও মিলছে।
Advertisement
ডিজেল ইঞ্জিন তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘চ্যানেল এয়ার বক্স’ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সরবরাহ করতে না পারায় প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে চুক্তিই একপ্রকার বাতিল করে দিয়েছিল রেলের বারাণসী লোকোমোটিভ ওয়ার্কস (বিএলডব্লু)। তখন এর নাম ছিল ডিজেল লোকোমোটিভ ওয়ার্কস (ডিএলডব্লু)। দেরিতে সাপ্লাই আসায় ওই উপাদান গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, পরে কোনও অজানা কারণে ফের সরবরাহের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেটেরিয়াল, যা কয়েকদিন আগেই বাতিলের খাতায় চলে গিয়েছিল, তা নিয়ে নেয় রেল। এর জন্য আলাদাভাবে পেমেন্ট করা হয় কয়েক কোটি টাকাও। যাবতীয় প্রশ্ন এখানেই। প্রথমত, চুক্তি বাতিল হওয়ার পর হঠাৎ কার নির্দেশে পুনর্নবীকরণ হল? সাপ্লাইয়ের সময়সীমাই বা বাড়ল কীভাবে? দ্বিতীয়ত, ৬ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার হিসেব বহির্ভূত (ইররেগুলার) পেমেন্ট। এই পেমেন্ট যদি বাড়তি হয়, তাহলে তা কার নির্দেশে হয়েছে? আম জনতার করের টাকা তো খোলামকুচি নয় যে, যাকে খুশি দিয়ে দেওয়া যাবে! সংসদে পেশ করা রিপোর্টে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি সাফ জানিয়েছে, কার নির্দেশে কেন এভাবে সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা জানতে কোনওরকম পদক্ষেপ নেয়নি রেলমন্ত্রক। এক্ষেত্রে একমাত্র লাভ হয়েছে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সরবরাহকারী সংস্থাটির। সময়সীমা পেরনোর পর সাপ্লাই দেওয়া সেই উপাদান গ্রহণ না করায় প্রথমে বিপুল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। তা ভরপাই করতেই কি হিসেব বহির্ভূত পেমেন্ট? এই প্রশ্নের ভিত্তিতেই পিএসি’র উল্লেখ, বেনিয়ম হওয়ার সম্ভাবনা পুরোমাত্রায় রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ব্যাপারে রেলমন্ত্রকের ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে’ও বিশেষ সন্তুষ্ট হয়নি ওই সংসদীয় কমিটি। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালের মে মাসে ৬৬০টি চ্যানেল এয়ার বক্স কেনার বরাত দেওয়া হয় ওই বেসরকারি সংস্থাকে। চুক্তি অনুযায়ী স্থির হয়, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সেগুলি সরবরাহ করতে হবে রেলকে। কিন্তু আদতে তা এসে পৌঁছয় আরও ছ’মাস পর। অর্থাৎ, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে। সরবরাহের সময়সীমা পূরণ করতে না পারায় প্রাথমিকভাবে তা ‘রিজেক্ট’ করে বিএলডব্লু। এরপরই নতুন টুইস্ট! ঘটনার এক বছর পর, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বিএলডব্লু তার সিদ্ধান্ত পাল্টায়। ‘রেট্রোস্পেকটিভ’ সিদ্ধান্ত মতো সরবরাহের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ৩৬ শতাংশ ছাড়সহ ‘রিজেক্ট’ করা সমস্ত চ্যানেল এয়ার বক্স ‘ছাড়’ পায়। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রেল জানায়, ২০১৮ সালের ১ জুন ‘জয়েন্ট প্রসিডিওর অর্ডার’ (জেপিও) মেনেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। এতেও সন্তুষ্ট হয়নি সংসদীয় কমিটি। নতুনভাবে পর্যালোচনারও সুপারিশ করেছে তারা। আর সেইসঙ্গে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’র ঢক্কানিনাদ নিয়ে। নতুন ভারত। মোদির ভারত। এবার কি রেল ইঞ্জিন দুর্নীতির ভারত?
সম্পর্কিত সংবাদ