Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর শহরে সরস্বতী প্রতিমার বেলাগাম দাম, সমস্যায় উদ্যোক্তারা

মেদিনীপুর শহরে সরস্বতী প্রতিমার বেলাগাম দাম, সমস্যায় উদ্যোক্তারা
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মাটির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। তাই শেষলগ্নেও মেদিনীপুরে চড়া দামে বিক্রি হল সরস্বতী দেবীর মূর্তি। আর এতেই বেশ সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত বছরের তুলনায় দেবীর মূর্তির দাম দুশো থেকে তিনশো টাকা করে বেড়েছে। সাধারণ মানুষের কথায়, বাধ্য হয়েই ছোট সাইজের ঠাকুরের মূর্তি কিনতে হচ্ছে। তিন থেকে চার ফুট উচ্চতার দেবী মূর্তির দাম বেড়েছে লাগামছাড়া। একইসঙ্গে ফলের দামও অনেকটাই বেশি। অপরদিকে, মৃৎশিল্পীরা জানাচ্ছেন, মাটির দাম ডবলের চেয়েও বেশি বেড়েছে। বেলে ও এঁটেল মাটির চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে না। এরফলে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে ঠাকুরের দাম। 
Advertisement
এদিন মেদিনীপুর শহরে সরস্বতী প্রতিমা কিনতে এসেছিলেন স্বপন মণ্ডল। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি দাম ঠাকুরের। ছোট-মাঝারি ঠাকুরের দাম পাঁচশো- ছ’শো চাইছে। আগের বছর একই ঠাকুর কিনেছি আড়াইশো টাকায়। পুজোর জন্য ঠাকুর তো কিনতেই হবে। অগত্যা বেশি দাম দিয়েই ঠাকুর কিনলাম। 
প্রসঙ্গত, আজ থেকেই বাসন্তী পঞ্চমীতে দেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। এছাড়া শহরের বেশিরভাগ বাড়িতেই সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। তার পাশাপাশি মেদিনীপুর শহরে বহু ক্লাব সরস্বতীর আরাধনা করে। পাশাপাশি এবছর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অনেক ক্লাবই বিভিন্ন ধরনের থিম ব্যবহার করে মণ্ডপ সাজিয়ে তুলেছে।  সেইসঙ্গে প্রতিমার ডিজাইনেও আসছে ভিন্নতা। পুরনো ঘরানা থেকে পেরিয়ে সরস্বতী প্রতিমাতেও আসছে আধুনিকতা। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার বহু মৃৎশিল্পী থিমের কথা মাথায় রেখে প্রতিমা তৈরি করেছেন। কিন্তু দাম শুনেই চক্ষু চড়কগাছ হচ্ছে ক্রেতাদের। 
শহরে প্রতিমা বিক্রেতা আলোক দাস ও সৌম্য সেন বলেন, সত্যি এবছর প্রতিমার দাম অনেকটাই বেশি। তাও বিক্রি ভালোই হচ্ছে। আমরা বেশি দাম দিয়েই প্রতিমা তৈরির সরঞ্জাম কিনছি। তাই বেশি দাম দিয়ে বিক্রিও করতে হচ্ছে। গত বছর যে ঠাকুর দেড়শো টাকায় বিক্রি করেছি। এবছর সেই একই ঠাকুর সাড়ে তিনশো টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। 
এক মৃৎশিল্পী বলেন, বেলে, এঁটেল মাটি একদম নেই। ঠাকুরের মূর্তি তৈরি করতে গঙ্গামাটি ব্যবহার করতে হয়েছে। আগে এক গাড়ি মাটির দাম ছিল দেড় হাজার টাকা। এখন এক গাড়ি মাটি আনতে চার হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তবে বেশি টাকা খরচ করেও ভালো মানের মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। 
এদিন মেদিনীপুর শহরের মৃৎশিল্পী সুব্রত দাস বলেন, ঠাকুরের শাড়ি, গয়না ও রঙের দাম বেড়েছে। কিন্তু মাটির দাম আকাশছোঁয়া। তাও যতটা কমে বিক্রি করা সম্ভব, সেটাই চেষ্টা করছি। বিক্রি ভালোই হচ্ছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ