Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে অসুস্থ প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের মৃত্যু

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে অসুস্থ প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের মৃত্যু
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর ও কলকাতা: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাফিলতির জেরে এখনও চিকিৎসাধীন রেখা সাউ। বৃহস্পতিবার প্রায় আটদিনের মাথায় মৃত্যু হল তাঁর পুত্র সন্তানের। সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা মৃত শিশুর ময়নাতদন্তের দাবি করেন। একইসঙ্গে প্রসূতির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকে প্রতি পদক্ষেপে হাসপাতালে টাকা দিতে হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরএমও পদমর্যাদার চিকিৎসক, এমএসভিপি সহ ১২ জনকে সাসপেন্ড করেন। চিকিৎসা গাফিলতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় খুশি রোগীদের পরিবারের সদস্যরা। 
Advertisement
এদিকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে এখনও সঙ্কটজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন নাসরিন খাতুন, মাম্পি সিংহ ও মিনারা বিবি। মাম্পি ও নাসরিন ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। সূত্রের খবর, তাঁদের শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। 
অপরদিকে, এদিন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ন্যায্য মূল্যের এক ওষুধের দোকান থেকে মিলেছে নিষিদ্ধ স্যালাইনের বোতল। অভিযোগ, সেই বোতলে ছত্রাকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। একইসঙ্গে স্যালাইনের বোতলে কোনও ব্যাচ নম্বর না থাকার অভিযোগ করেন রোগীর পরিজনরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল মৌসুমী নন্দী বলেন, শিশুটি সঙ্কটজনক অবস্থায় ছিল। আজকে সকালে মারা গিয়েছে। সমস্ত বিষয়ের উপর নজর রাখা হচ্ছে। এদিন মৃত সন্তানের বাবা সন্তোষ সাউ বলেন, রেখাকে ভালো চিকিৎসক দেখিয়েছিলাম। বলেছিল মা ও সন্তান ভালো আছে। কিন্তু সিজারিয়ান পদ্ধতিতে প্রসব হওয়ার পরেই সমস্যা দেখা দেয়। একইসঙ্গে সন্তান হওয়ার পর প্রতিটা পদক্ষেপে টাকা নেওয়া হয়েছে। শুরুতেই সন্তান হওয়ার পরেই পাঁচশো টাকা নেওয়া হয়। সাতশো টাকা দাবি করা হয়েছিল। এখানে ব্যবসা চলে। 
প্রসঙ্গত, ৮ জানুয়ারি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন পাঁচ প্রসূতি। তার মধ্যে ছিলেন বেলদা সংলগ্ন খাকুড়দার বাসিন্দা রেখা সাউ। ঘটনার পর থেকেই রেখা দেবীর পুত্র সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন রেখাদেবী। যদিও বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগের জেনারেল বেডে রাখা হয়েছে। এদিন হাসপাতালে দাঁড়িয়ে প্রসূতির স্বামী দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমার প্রথম সন্তানকে হারালাম। এমন শাস্তির প্রয়োজন, যাতে আর কেউ এই সমস্যায় না পড়েন।’ 
অন্যদিকে, এদিন ডেবরার এক নার্সিংহোমে হানা দেয় সিআইডির প্রতিনিধিদল। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ডিউটি ছিল। কিন্তু সেই সময় তিনি হাসপাতালে উপস্থিত  ছিলেন না। সে বিষয়ে নানা খোঁজখবর নেন সিআইডির আধিকারিকরা। সেই দিনের রেজিস্টার সংক্রান্ত নানা নথি নিয়ে যান সিআইডির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এদিন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগে পরিবারের সদস্যের চিকিৎসার জন্য আসেন কেশপুরের বাসিন্দা সঞ্জীব মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে দেখছি পরিষেবা ভালো হয়েছে। সময়মতো আসছেন চিকিৎসকরা।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ