নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পুরসভায় জাল কনভার্সন সার্টিফিকেট জমা দিয়ে মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসাল এক বেসরকারি সংস্থা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুর শহরে বেশ শোরগোল পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুর শহরের বল্লভপুর মৌজার পালবাড়ি সংলগ্ন কংসাবতী নদী তীরবর্তী এলাকায়। এনিয়ে পুরসভা কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, নদীর পাশেই জালিয়াতি করে টাওয়ারটি তৈরি হয়েছে। এক বেসরকারি কোম্পানি ও জমির মালিক একত্রে জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে পুরসভায় জমা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই মোবাইল ফোনের টাওয়ারটি তৈরি করে ফেলেছে বেসরকারি সংস্থাটি। পুর এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, পুর এলাকার বহু জমির জাল নথি বার করে চলছে নানা ধরনের অনৈতিক কাজ। এছাড়া শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল পরিমাণে সরকারি জমিও দখল হয়ে গিয়েছে। মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, জাল নথি পেশ করা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই সন্দেহ হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভূমি সংস্কার দপ্তর চিঠি মারফত জানিয়েছে, কনভার্সন সার্টিফিকেটটি সঠিক নয়। কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনও বিষয়ে জালিয়াতি করলেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কংসাবতী নদী তীরবর্তী এলাকায় এক বেসরকারি কোম্পানি টাওয়ার বসানোর পরিকল্পনা করে। গত বছর ১১ ডিসেম্বর বেসরকারি কোম্পানিটি পুরসভার কাছে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’-এর (এনওসি) জন্য আবেদন করে। একইসঙ্গে তাদের তরফে একটি জাল কনভার্সন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়। সেই সার্টিফিকেটে ভূমি সংস্কার দপ্তরের স্ট্যাম্প ব্যবহার করে প্রতারকরা। প্রথম দিকে বিষয়টি ধরতেই পারেননি পুরসভার আধিকারিকরা। পরে স্ক্রুটিনির সময়ে নজরে আসে বিষয়টি। তাঁরা দেখেন, সার্টিফিকেটে কোনও কিউআর কোড নেই। এছাড়া বালু জমিকে বাস্তু জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তড়িঘড়ি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুরসভার তরফে ভূমি সংস্কার দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। শুরু হয় তদন্ত। এরপর গত মঙ্গলবার ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় কনভার্সন সার্টিফিকেটটি জাল। একইসঙ্গে অরিজিনাল সার্টিফিকেটটি পাঠিয়ে দেয় ভূমিদপ্তর। যা সামনে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ পুরসভার আধিকারিকদের।
Advertisement
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, খুব দ্রুততার সঙ্গে টাওয়ারটি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানেও টাওয়ার সংলগ্ন জায়গায় কাজ চলছে। ০.০২০৬ একর জমি রয়েছে। এটি মূলত ‘ধানী দোয়েম’ অথবা বালু প্রকৃতির জমি। টাওয়ার তৈরির সময়ে সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে কিনা জানা নেই। ঘন বসতির মধ্যেই টাওয়ারটি তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সন্দীপ মণ্ডল বলেন, বেশ কিছুদিনের মধ্যেই টাওয়ারটি তৈরি করা হয়েছে। কে বা কারা তৈরি করল জানি না। জালিয়াতি করে থাকলে পুরসভার তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।



