নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৭ বছরের এক রোগিণীর ‘সাধারণ মাথা ব্যথা’য় তিনটে ওষুধ দেওয়া হয় এবং করা হয় সিটি স্ক্যান। আবার হার্ট অ্যাটাকের রোগিণীর চিকিৎসা চলে পেট ব্যথার রোগী ধরে নিয়ে। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল এবং এন আর এস মেডিক্যাল কলেজের এমন দুই ঘটনার তদন্তে নামলেন খোদ স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমই। প্রথম ঘটনায় মেডিক্যাল কলেজের এক সিনিয়র রেসিডেন্টের নাম আসায় স্বাস্থ্যদপ্তর প্রথমে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে ডেকে পাঠায়। তারপর তদন্ত করে জানা যায়, মেডিক্যালের ওই এসআর নয়, স্বাস্থ্যদপ্তরের ডিস্ট্রিক্ট রেসিডেন্সি প্রোগ্রামের আওতায় ওই ‘কাণ্ডটি’ করেছিলেন বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ট্রেনিং-এ থাকা যাদবপুরে এক প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের পিজিটি। অন্যদিকে এন আর এস-এর ওই ঘটনায় জীবনসংশয় হওয়ার উপক্রম হয়েছিল মাঝবয়সি এক মহিলার। বিষয়টি নজরে আসতেই এন আর এস কর্তৃপক্ষকে তলব করে স্বাস্থ্যদপ্তর। দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা জানান, আদর্শ চিকিৎসা, উপসর্গ সঠিকভাবে বিচার করে রোগ এবং রক্তপরীক্ষার বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে। বিষয়টি দেখে তাই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই জাতীয় ঘটনা ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এই বিষয়ে রবিবার মেডিক্যালের অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশমতো গিয়েছিলাম। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে থাকলে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হতো। এন আর এস-এর অধ্যক্ষ ডাঃ পীতবরণ চক্রবর্তী বলেন, অতিবিরল ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এপিগ্যাস্টিক পেইন বা পেট ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তাই চিকিৎসা বিভ্রাট হয়েছে বলে মনে হয় না। প্রথম ক্ষেত্রে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আসা রোগিণীর সাধারণ মাথার ব্যথার চিকিৎসায় অবসাদ, খিঁচুনিসহ তিন ধরনের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি সিটি স্ক্যান করতে বলা হয়েছিল। এই ‘অতিচিকিৎসা’ পড়েছে প্রশ্নের মুখে। অন্যদিকে এন আর এস-এর মাঝবয়সি রোগিণীকে সেখান থেকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ ধরা পড়ে। সেইমতো চিকিৎসা করে তাঁকে স্থিতিশীল করা হয়। কোনওক্রমে প্রাণ বাঁচে ওই রোগিণীর।



