Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেডিক্যালে দুর্ব্যবহার, বৃদ্ধ রোগীর মুখে আউটডোর টিকিট ছুড়ে মারলেন কর্মী!

মেডিক্যালে দুর্ব্যবহার, বৃদ্ধ রোগীর মুখে আউটডোর টিকিট ছুড়ে মারলেন কর্মী!
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  দু’টাকার আউটডোর টিকিট ছাড়া সব ধরণের চিকিৎসাই বিনামূল্যে। এই ফ্রি চিকিৎসা দেয় সরকার। হাসপাতালের কোনও কর্মী বা চিকিৎসক তা দেন না। তবে অভিযোগ, ফ্রিতে চিকিৎসা করাতে আসা গরিব, মধ্যবিত্ত রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয় হামেশাই। রোগির পরিবারের অভিযোগ, সিংহভাগ ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার মুখ বুজে সহ্য করতে হয় রোগী বা পরিজনদের। সম্প্রতি মেডিক্যাল কলেজেও এরকম ঘটনা ঘটে। তবে সে ঘটনা ব্যতিক্রমী হয়ে উঠল একটি কারণে। বালির বাসিন্দা এক বৃদ্ধ রোগী চূড়ান্ত অপমানিত হয়ে চুপ করে রইলেন না। সটান গিয়ে অভিযোগ জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।
Advertisement
কার্ডিওলজি টিকিট কাউন্টারে চরম হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল ওই বৃদ্ধকে। তাঁর অভিযোগ, যাচ্ছেতাই ভাষায় অপমান করে আউটডোর টিকিটটি তাঁর মুখের উপর ছুড়ে দেন কাউন্টারে থাকা এক মহিলা কর্মী। এরপর অপমানিত বৃদ্ধ সোজা পৌঁছে যান হাসপাতালে এক বড় কর্তার অফিসে। বিস্তারিত অভিযোগ জানান। ঘটনার কথা শোনার পর ওই আধিকারিক তাঁকে চিকিৎসক দেখানোর ব্যবস্থা তো করেই দেন। পাশাপাশি পরের দিন লিখিত অভিযোগও জানাতে বলেন। জানা গিয়েছে, আধিকারিক তাঁকে বলেন, ঘটনা সত্যি হলে অভিযুক্ত এমন শাস্তি পাবেন যে, ভবিষ্যতে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার আগে সব কর্মী একশোবার ভাববেন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, সঞ্জীববাবুর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তিন সদস্যের কমিটিতে প্রশাসন, শিক্ষক-চিকিৎসক ও কর্মীদের তরফে প্রতিনিধি আছেন। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।  
সূত্রের খবর, সঞ্জীববাবু একটি বেসরকারি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। যাবতীয় অসুখের চিকিৎসা করাতে আসেন মেডিক্যালেই। ২২ নভেম্বর বুকে অস্বস্তিবোধ হওয়ায় মেডিক্যালের কার্ডিওলজি বিভাগে যান। আউটডোরে টিকিট করিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে এন্ট্রি করান। কিন্তু হঠাৎ জরুরি ফোন আসে। ফলে তিনি বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন। পরের দিন ফের যান কার্ডিওলজি আউটডোরে টিকিট এন্ট্রি করিয়ে ডাক্তার দেখাতে। অভিযোগ, তখন তাঁর দেওয়া টিকিটটি হাতে নিয়ে কাউন্টারের ওই মহিলা কর্মী একপ্রকার এক্তিয়ার বহিভূর্তভাবে প্রশ্ন করেন, ‘কাল ডাক্তার দেখাননি কেন? আছেন ভালো তো?’ সঞ্জীববাবু প্রকৃত কারণ বলার পরও দুর্ব্যবহার করতে থাকেন ওই কর্মী। তারপর টিকিটটি ছুড়ে দেন বৃদ্ধের মুখে। তারপর পশু তাড়ানোর ঢঙে বলেন, ‘যান, যান, আপনাকে ডাক্তার দেখাতে হবে না। আর দেখাতে হলে লাইনের একেবারে পিছনে গিয়ে দাঁড়ান।’ ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ক্লান্ত-বিধ্বস্ত বৃদ্ধ হেনস্তা হজম করতে পারেননি। সোজা গিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিককে অভিযোগ জানান। শেষে আধিকারিকের হস্তক্ষেপে ডাক্তার দেখাতে সক্ষম হন। এরপর ২৬ নভেম্বর ফের আসেন মেডিক্যালে। সেদিন সঙ্গে নিয়ে আসেন অভিযোগ লেখা চিঠি।
সম্পর্কিত সংবাদ