Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাদক পাচারের নয়া করিডর করিমপুর, উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা

মাদক পাচারের নয়া করিডর করিমপুর, উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: মাদক পাচারচক্রের ‘জংশন’  হয়ে উঠেছে করিমপুর এলাকা। সেখানেই মাদকের হাতবদল করা হচ্ছে। গাঁজা হোক কিংবা নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ—মুর্শিদাবাদ লাগোয়া, করিমপুর, থানারপাড়া, হোগলবেড়িয়া থানা এলাকাতেই মাদক পাচারচক্রের অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে। চক্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক গ্যাংও সক্রিয়। এমনটাই মনে করছেন গোয়েন্দারা। পুলিসের নজর এড়িয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় মাদক এক গ্যাং থেকে অন্য গ্যাংয়ের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তারপর তা নদী পেরিয়ে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গোটা চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে ডোমকলের এক কিংপিন। পুলিসের হাতে ধরা না পড়লেও তার হদিশ পেয়েছে গোয়েন্দারা। সেই চক্রের দুজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিস। ধৃতদের নাম আমির সাহিল খান এবং সোহেল খান। মঙ্গলবার রাতে থানারপাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তাদের। ধৃতদের সূত্র ধরেই কিংপিনের কাছে‌ পৌঁছতে চাইছেন তদন্তকারী অফিসাররা। 
Advertisement
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, ‘মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের পুলিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত মূল মাথার খোঁজে আমরা তল্লাশি চালাচ্ছি।’
কয়েকদিন আগে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত জোড়াকুঠির কাছে জাতীয় সড়কে একটি লরিকে আটক করা হয়। লরির নীচে বিশেষ ক্যাবিনেট বানিয়ে গাঁজা পাচার করা হচ্ছিল।‌ সেখান থেকে প্রায় ১৩৭ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিস। গাড়ির চালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জানতে পারে, সেই মাদক ওড়িশা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল। করিমপুরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তারা। এর আগেও পাঁচবার তারা এই রুটে গাঁজা পাচার করেছে।
ধৃতদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীর অফিসাররা। জিজ্ঞাসাবাদেই এই আমির সাহিল এবং সোহেল খানের নাম জানতে পারে পুলিস। দু’জনেরই বয়স পঁচিশের নীচে। জানা গিয়েছে ধৃত আমির সাহিলের বাড়ি থানারপাড়া থানার অন্তর্গত নারায়ণপুরে এবং সোহেল খানের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানা এলাকায়। এদেরকেই গাঁজা হস্তান্তর করার কথা ছিল ধৃত গাড়ির চালক ও খালাসির। তারপর সাহিল ও সোহেল তা নিয়ে ঘাট পেরিয়ে মুর্শিদাবাদ চলে যেত। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, জাতীয় সড়ক ধরে অনায়াসেই পাচারকারীরা মুর্শিদাবাদ পৌঁছতে পারে। কিন্তু রুট ব্রেক করে করিমপুরের দিকে আসার প্রবণতা ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের। অনুমান করা হচ্ছে, জাতীয় সড়কে নাকা চেকিং কড়াকড়ি করার কারণেই গ্রামের রাস্তা দিয়ে ঘুরপথে মাদক পাচার করা হচ্ছে। 
ভৌগোলিকভাবেওকৃষ্ণনগর পুলিস জেলার করিমপুর, থানারপাড়া, হোগলবেড়িয়া থানা এবং বহরমপুর পুলিস জেলার হরিহরপাড়া, ডোমকল এবং নওদা থানা পাশাপাশি অবস্থিত। তাই এই গোটা এলাকাতেই মাদক পাচার চক্রের হাব হিসেবে গড়ে তুলছে কারবারিরা। বিগত কয়েকমাসে জাতীয়সড়ক‌ দিয়ে পাচারের সময় একাধিকবার গাঁজা এবং নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিস। প্রতিবারই দেখা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত সামগ্রী করিমপুরে দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ