সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের সুর বিজেপির অন্দরেও। সংসদ অচল করার জন্য সরকারই দায়ী বলে বিরোধীরা লাগাতার তোপ দাগছে। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি থেকে উদ্ধবের শিবসেনা—সকলেরই বক্তব্য, সরকারপক্ষের আচরণ থেকেই স্পষ্ট যে, তারা চাইছে না সংসদের অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে চলুক। বিরোধীরা প্রত্যেক অধিবেশনেই কিছু দাবি ও ইস্যু উত্থাপন করবে। কিছু ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখাবে। সরকার পক্ষ কিছু আলোচনায় সায় দেয়। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো সংসদীয় রীতি তথা ধারার বদল ঘটিয়ে নরমপন্থা নেয়। এভাবেই আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়। কিন্তু এবার সরকার পক্ষ মাঝেমধ্যেই এমন কিছু প্রসঙ্গ ও মন্তব্য করছে, যাতে সংঘাত চরমে ওঠে। আর অধিবেশনের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়। বিরোধীদের অভিযোগ , এই প্রবণতা লাগাতার দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে যেহেতু কংগ্রেস তাঁকে বিদ্ধ করছে, তাই যেনতেনপ্রকারেণ বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে সংসদকে ভণ্ডুল করারই চক্রান্ত করেছে সরকার। তাৎপর্যপূর্ণ হল, সোমবার থেকে বিজেপির সংসদীয় দলের অন্দরেও মৃদু অসন্তোষের আঁচ। কেন শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনার পথ থুলতে চাইছে না তা বুঝে উঠতে পারছেন না এমপিদের একটি বড় অংশ। যদিও প্রকাশ্যে কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করছেন না। বিরোধীদের আক্রমণের অভিমুখ প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে রক্ষা করতে বিজেপি তথা সরকারপক্ষ এমন অনড় মনোভাব নিয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম আর এই অধিবেশনে হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। হয়তো সংবিধান নিয়ে চারদিনের আলোচনা হবে এবং তারপরই শেষ হবে সংসদের এই অধিবেশন। বহু বিজেপি এমপি মনে করছেন এবার সরকার পক্ষের এই জেদ ধরে রাখা অযৌক্তিক। কারণ স্পষ্ট হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীকে আড়াল করতেই সরকার ব্যস্ত। সংসদ চালাতে নয়। আর এর জেরে বিরোধীরা আরও সুযোগ পাচ্ছে সরকারকে কোণঠাসা করার। তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সরকার চাইছে না আমাদের মুখোমুখি হতে। আলোচনার সুযোগ পেলে বাংলার বকেয়া থেকে মূল্যবৃদ্ধি অথবা বেকারত্ব, বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা সরকারকে চেপে ধরব। তাই সরকার পালাচ্ছে। কংগ্রেসের পবন খেরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করতে বিজেপি এতটাই মরিয়া যে, আমেরিকাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নষ্ট করতেও দ্বিধা নেই সরকারের। তাদের আসল লক্ষ্য মোদি যেন কোনও প্রশ্নের সম্মুখীন না হন। এই প্রবল ভীতি কেন?
Advertisement
অন্যদিকে সংসদীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, বিরোধীরা এখনও রাজ্যে রাজ্যে পরাজয়ের জ্বালা ভুলতে পারছে না। তাই এভাবে সংসদের অধিবেশনে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু তিনি যাই বলুন, বিজেপির অন্দরে জোরদার কানাঘুষো চলছে যে, সরকারপক্ষ এভাবে ব্যাকফুটে কেন? আলোচনায় অসুবিধা কী?



