Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুতে আলিপুরদুয়ারে ধৃত বাবা-জ্যাঠা

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুতে আলিপুরদুয়ারে ধৃত বাবা-জ্যাঠা
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: চাপড়েরপাড়-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চালনিরপাক গ্রামে জমি বিবাদকে ঘিরে পারিবারিক অশান্তির জেরে গ্রেপ্তার হল দু’জন। দুই পরিবারের মধ্যে দা-লাঠি নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছিল। সংঘর্ষে জখম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুকান্ত দেবনাথের মৃত্যুর পর শনিবার অনেকে রাতে মৃত পড়ুয়ার বাবা সজয় দেবনাথ ও জ্যাঠা অরূপ দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। যদিও ধৃতরা জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সুস্থ হওয়ার পর পুলিস ধৃতদের আদালতে তুলবে। 
Advertisement
জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে চালনিরপাকের বাসিন্দা দুই ভাই অরূপ দেবনাথ ও সজয় দেবনাথের মধ্যে প্রায় ২০ বছর ধরে অশান্তি চলছিল। গত শুক্রবার অশান্তি চরমে ওঠে। তারপরেই দা, কাটারি ও লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই ভাইয়ের পরিবার। দু’পক্ষের এই সংঘর্ষে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুকান্ত, তার বাবা সজয় ও জ্যাঠা অরূপ সহ মোট পাঁচজন জখম হন। 
জখম হওয়ার কারণে শনিবার হাসপাতালেই সুকান্তর পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিল পুলিস। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা আর দিতে পারেনি সে। শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যার দিকে কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুকান্ত। তারপরেই রাতের দিকে মৃত পড়ুয়ার বাবা ও জ্যাঠাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। 
আলিপুরদুয়ারের পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, চাপড়েরপাড়ের চালনিরপাকে জমি বিবাদকে ঘিরে সংঘর্ষে জখম দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হাসপাতালে ভর্তি। সুস্থ হওয়ার পর ধৃত দুই ব্যক্তিকে আদালতে তোলা হবে। 
এই ঘটনায় রবিবারও থমথমে ছিল চালনিরপাক এলাকা। কারণ পারিবারিক মারপিটের পরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুকান্ত ও তাঁর বাবাকে পিছমোড়া করে বেঁধে ব্যাপক মারধর করা হয়েছিল। কিন্তু কারা সুকান্ত ও তাঁর বাবাকে এভাবে মারধর করল পুলিস এখনও তা জানতে পারেনি। এখনও এই ঘটনার পুলিসি তদন্ত চলছে। পুলিসের গ্রেপ্তার এড়াতেই সম্ভবত ভয়ে গ্রামের কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। 
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নির্মল টুডু বলেন, সজয়বাবুর ছয় ছেলে। সুকান্ত দ্বিতীয়। সংঘর্ষে ওর মাও অসুস্থ। বাড়িতে ছেলেদের খাওয়াদাওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। আমিই কিছু টাকা তুলে দিয়েছি। এখন সুকান্তের মৃতদেহের সৎকার হবে কীভাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ