নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ছাত্রীদের জন্য কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছে সরকার। হেঁটে যাতে স্কুলে যেতে না হয়, তার জন্য দেওয়া হচ্ছে সাইকেল। ১৮বছরের পর বিয়ে করলে মিলবে রূপশ্রী প্রকল্পে ২৫হাজার টাকা। কিন্তু ততদিন অনেকেই ধৈর্য্য ধরতে পারছে না। মাধ্যমিকে বসার আগেই তারা হেঁশেলে পৌঁছে যাচ্ছে। কেউ বাবা-মায়ের দেখা পাত্রকে বিয়ে করছে। আবার কেউ নিজের পছন্দের মানুষের হাত ধরে ঘর ছাড়ছে। সেকারণে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছাত্রীদের অনুপস্থিতি বাড়ছে। ইংরেজি পরীক্ষার দিন ৭২৪জন ছাত্রী অনুপস্থিত ছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষার কনভেনর অমিত ঘোষ বলেন, সরকার এত সুবিধা দেওয়ার পরও অনেক ছাত্রীই অনুপস্থিত থাকছে। বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের। কন্যাশ্রী প্রকল্পে মেয়েরা পড়াশোনার খরচ পাচ্ছে। পরিবারের উপর তাদের ভরসা করতে হচ্ছে না। কী কারণে ছাত্রীরা অনুপস্থিত থাকছে তা খতিয়ে দেখা হবে। রায়না-১ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শৈলেন্দ্রনাথ সাঁই বলেন, রায়নার একটি স্কুলে প্রথম পরীক্ষার দিনই আটজন ছাত্রী অনুপস্থিত ছিল। কারণ খুঁজতে তাদের বাড়ি গিয়েছিলাম। তারা অনেকেই বিয়ে করেছে। অল্প বয়সে কেন মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়ায় এক অভিভাবক রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি হুমকির সুরে বলেন, মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য কারও অনুমতি লাগে নাকি! এরকম মানসিকতা হলে নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করা সত্যিই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ১৯৮জন ছাত্রও অনুপস্থিত ছিল। রেজিস্ট্রেশন করার পরও তারা পরীক্ষায় বসেনি। এবছর জেলায় মোট ৪৫হাজার ৮৪৮জনের মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। তারমধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ২৬হাজার ৪০০। ছাত্র ১৯হাজার ৪৪৮। কয়েক বছর ধরেই ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীরা বেশি সংখ্যায় রেজিস্ট্রেশন করছে। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেরই মতিভ্রম হওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত আসতে পারছে না। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, সরকারি প্রকল্পগুলির জন্যই ছাত্রীরা ছাত্রদের টেক্কা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে একাংশ অবশ্য পরীক্ষার থেকে বিয়ে করাটাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। তারা মাঝপথে এসে পড়াশোনা বন্ধ করছে। তবে যেসব পরিবার অল্পবয়সে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন ছাত্রীরা পরীক্ষা দিচ্ছে না তা জানতে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হবে।
এক আধিকারিক বলেন, কয়েকজন অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যাওয়ার পরও পরীক্ষায় বসেনি। তাদের সবাই বিয়ে করেছে অবশ্য এমনটা নয়। কেউ কেউ অন্য কারণেও পরীক্ষা দিচ্ছে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনও জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই শেষ হয়েছে। কয়েকজন হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্রীও রয়েছে।
এক আধিকারিক বলেন, কয়েকজন অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যাওয়ার পরও পরীক্ষায় বসেনি। তাদের সবাই বিয়ে করেছে অবশ্য এমনটা নয়। কেউ কেউ অন্য কারণেও পরীক্ষা দিচ্ছে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনও জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই শেষ হয়েছে। কয়েকজন হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্রীও রয়েছে।



