নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাংলাদেশে লাগাতার অশান্তির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের উৎসব-অনুষ্ঠানে! মধ্যমগ্রাম পুরসভা পরিচালিত পরিবেশ সচেতনতা মেলায় গান শোনাতে আসছেন বাংলাদেশের শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা—এই খবর চাউর হতেই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে নাগরিকদের একাংশ। কেউ কেউ বাংলাদেশি শিল্পীকে আমন্ত্রণের ঘোর আপত্তি তুলেছেন। সকালের চায়ের ঠেক থেকে সন্ধ্যার জটলায় এ বিষয়ে নানা চর্চা চলছে। পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত সরগরম হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমনকী, কেউ কেউ মেলা বয়কটের ডাকও দিয়ে ফেলেছেন। যদিও পুরসভার দাবি, প্রাথমিকভাবে এই শিল্পীর নাম ভাবা হয়েছে। তবে এখনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
Advertisement
হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের পর থেকে বাংলাদেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে সেখানকার হিন্দু সহ সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে বলে অভিযোগ ছিলই। চিন্ময়কৃষ্ণ গ্রেপ্তারের পর আক্রমণের তীব্রতা অনেক বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যমগ্রাম পুরসভা আয়োজিত পরিবেশ সচেতনতা মেলার উদ্বোধনী সন্ধ্যায় বাংলাদেশের শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার অনুষ্ঠান নিয়ে তীব্র আপত্তি উঠতে শুরু করে। এবার ২৮ ডিসেম্বর থেকে মেলা শুরু হবে। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় শিল্পীদের সম্ভাব্য তালিকার খবর কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু মতামত-পাল্টা মতামত দেওয়া চলছে। এমনকী, মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে রেজওয়ানার অনুষ্ঠান বাতিলের আবেদনও করা হয়েছে। মধ্যমগ্রামের এক নাগরিক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মধ্যমগ্রাম পুরসভার কাছে আবেদন, ২৮ ডিসেম্বর মধ্যমগ্রাম পরিবেশ মেলায় বাংলাদেশের শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান পরিবেশন অবিলম্বে ক্যানসেল করুন। বাংলাদেশের কোনও শিল্পীকে প্লিজ কোনও অনুষ্ঠান করতে দেবেন না। আগে দেশ, তারপর সবকিছু।’ এই শহরের বাসিন্দা তথা একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন রূপক দে বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার চলছে লাগাতার। ভারতের জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করা হচ্ছে। পদ্মাপারের শিল্পীরা কেউ তো কোনও প্রতিবাদ করছেন না। আমাদের জাতীয়তাবোধ আগে। তাই এমন অনুষ্ঠানের আপত্তি জানাচ্ছি।’ তবে অন্য মতও আছে। যেমন, স্থানীয় সঙ্গীতশিল্পী অর্পিতা হালদার বলেন, ‘শিল্পীদের মধ্যে এভাবে বিভাজন করে কারও অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি তোলা ঠিক নয়। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বের কাছেই সমাদৃত।’ এ বিষয়ে মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, ‘আমাদের অনুষ্ঠান দেরি আছে। ওঁর আসার ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ক’দিনের মধ্যেই শিল্পীতালিকা চূড়ান্ত হবে। তখনই সবাই সবটা জানতে পারবেন। তাছাড়া, উনি বাংলাদেশের শিল্পী হলেও থাকেন ভারতে। কারও শিল্পীসত্তার বিভাজন ঠিক নয়।’



