Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

মোদি নয়! ঝাড়খণ্ডে হেমন্তকে হারাতে বিজেপির আস্থা হিমন্তে

মোদি নয়! ঝাড়খণ্ডে হেমন্তকে হারাতে বিজেপির আস্থা হিমন্তে
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
প্রীতেশ বসু, রাঁচি: ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’। পুরনো এই স্লোগানে কি আর কাজ হচ্ছে না ঝাড়খণ্ডে! ২০১৪ সালে দিল্লি দখলের পর যাকে হাতিয়ার করে একাধিক রাজ্যে ভোট বৈতরণী পার করেছে বিজেপি, তা আজ বহুল ব্যবহারে ক্রমশ ক্লিশে। সেই কারণেই ঝাড়খণ্ড দখলের লড়াইয়ে মোদিজির উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখতে পারছে না গেরুয়া শিবির। এনিয়ে প্রচারের শেষ প্রহরে জোর জল্পনা চলছে বিজেপির অন্দরেও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বাবুলাল মারান্ডি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ভেঙে আসা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মুখ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন এবং লুইস হেমব্রমকে পিছনে ফেলে রাজ্যে দলের প্রচারের রাশ হিন্দুত্বের পোস্টারবয় হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাঁধে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা হেমন্ত সোরেনকে আটকাতে গত দু’মাসে রাজ্যটাকে চষে ফেলছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তুলনায় মোদির নামমাত্র প্রচারে আসার কথা। এমনও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি কঠিন লড়াইয়ে নিজের কাঁধ থেকে দায় ঝেড়ে ফেলতেই হিমন্তকে সামনে রাখার কৌশল সাজিয়েছেন মোদিজি? 
Advertisement
খনিজ প্রধান ঝাড়খণ্ডে প্রথম দফায় ৪৩টি আসনে ভোট আগামী ১৩ নভেম্বর। বাকি ৩৮ আসনে ২০ নভেম্বর। দু’দফায় নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, রাজনাথ সিং, ধর্মেন্দ্র প্রধান, শিবরাজ সিং চৌহান সহ একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকছেন ‘ডেলি প্যাসেঞ্জারের’ তালিকায়। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আসার কথাও রয়েছে। সবাই আসছেন, দেখছেন, তারপর হাওয়াই জাহাজে ফিরে যাচ্ছেন। একমাত্র তাঁবু বেঁধে প্রচারে হিমন্ত। গত দু’মাসে মাত্র দু’বারই তিনি রাঁচি ছেড়েছেন। লক্ষ্মী পুজো ও ভাইফোঁটায়। লক্ষ্য একটাই, হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ভয় দেখিয়ে সাঁওতাল পরগনার আদিবাসী ভোট বিজেপির পক্ষে টানা। একাজ করতে গিয়ে অসমের মত ঝাড়খণ্ডেও এনআরসি’র জিগির তুলতেও কসুর করছেন না তিনি। প্রতিটি জনসভাতেই হিমন্তের গলায় শোনা যাচ্ছে এনআরসি’র কথা। অথচ, অসমের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী নীহার রঞ্জন দাসকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে তোপ দেগেছে প্রতিপক্ষ কংগ্রেস। অসম সরকারের বিরুদ্ধে মোদির পিএম সম্মান নিধি প্রকল্পের ৫৬৭ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছে খোদ ক্যাগ। 
গত শুক্রবার জেএমএম নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থীদের হয়ে ঝাড়খণ্ডের একাধিক জায়গায় সভা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিজেপির বিরুদ্ধে আদিবাসী অধ্যুষিত ঝাড়খণ্ডে সাধারণ মানুষের জল, জঙ্গল, জমি ছিনিয়ে নিতেই বিজেপি ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে সুর চড়িয়েছেন রাজীবপুত্র। শেষ প্রহরে আসার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদিরও। এনিয়ে বিজেপিকে কটূক্তি করতে ছাড়েনি জেএমএম। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন বলেন, সত্যিই এটা চিন্তার বিষয়। ওদের যতজন মুখ্যমন্ত্রী আছেন তাঁদের সবাইকে ঝাড়খণ্ডে প্রচার করার জন্য পাঠাচ্ছেন। আর একজনের তো অসম নিয়ে কোনও চিন্তাই নেই। উনি যেন আমাদের বিরুদ্ধে ‘সুপারি’ নিয়ে ঝাড়খণ্ডে এসেছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ