বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক আর একগুচ্ছ বেসরকারি আর্থিক সংস্থার ভিড়ে ডাকঘর আজও দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সংস্থা। দেশের ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ডাকঘরে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতায় রয়েছে ৩৬ কোটি ৩২ লক্ষ সেভিংস অ্যাকাউন্ট। বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পগুলি এর মধ্যেই রয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা রয়েছে প্রায় ১৯ লক্ষ কোটি টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় লাফিয়ে বাড়ছে ডাক বিভাগের লোকসান। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ইন্ডিয়া পোস্টের আর্থিক ঘাটতি বা লোকসান ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সেই ঘাটতি পোঁছেছে ২৩ হাজার ১০৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র আট বছর পর সেই বার্ষিক ঘাটতিই বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি! খোদ ডাক বিভাগেরই দাবি, প্রতি ১০০ টাকা খরচ হলে ডাকঘরের আয় হচ্ছে মাত্র ৩৩ টাকা!
Advertisement
এই অবস্থায় কেন্দ্র চাইছে লোকসানের বোঝা সামলে মুনাফা করুক পোস্ট অফিসগুলি। সেই লক্ষ্যে বেসরকারি উপদেষ্টা সংস্থা নিয়োগ করতে চলেছে তারা। কী উপায়ে কমতে পারে লোকসানের বহর? ডাক বিভাগ মনে করছে, লাভের পথে সব থেকে বড় বাধা বিভাগের কর্মী ও অফিসারদের বেতন ও পেনশন খাতে বিপুল খরচ। লোকসান কমাতে গেলে অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি বেতন ও পেনশন খাতে খরচ কমানো ছাড়া উপায় নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেক্ষেত্রে কর্মী সংকোচনই একমাত্র উপায়। এদিকে, ডাকঘরের পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের অন্ত নেই। এই অবস্থায় কর্মী সংকোচন হলে বা কেউ অবসর নেওয়ার পর শূন্যপদ পূরণ না হলে পরিষেবার মান কি আরও খারাপ হবে? ঘনিয়ে উঠেছে সেই আশঙ্কাও।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, ডাক বিভাগের মোট খরচের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মী ও অফিসারদের বেতন এবং পেনশন খাতেই খরচ প্রায় ২০ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। ডাক বিভাগের আয় মূলত দু’টি খাত থেকে আসে। প্রথমটি ডাক পরিষেবা, যেখানে পোস্টাল স্ট্যাম্প, মানি অর্ডার এবং পণ্য ডেলিভারি করে আয় হয় তাদের। গত অর্থবর্ষে এই খাতে আয়ের অঙ্ক পাঁচ হাজার কোটি টাকায়ও পৌঁছয়নি। এছাড়া, সঞ্চয় প্রকল্পগুলি চালানোর জন্য অর্থমন্ত্রক থেকে তারা কমিশন বাবদ আদায় করতে পেরেছিল সাড়ে ৬ হাজার কোটির কিছু কম টাকা। ফলে কোনওভাবেই আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেনি তারা।
ডাক বিভাগের কর্তারা জানাচ্ছেন, এই সমস্যা কাটাতেই বেসরকারি সংস্থার পরামর্শ নিতে চলেছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহপত্র চাওয়া হয়েছে। সেখানে যেসব ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে কর্মিবর্গ পরিচালনার বিষয়টিও। ওই আগ্রহপত্র থেকে স্পষ্ট, বেতন ও পেনশন খাতে বিপুল খরচ কমিয়ে কীভাবে আয় বৃদ্ধি করা যায়, সেই পথ খুঁজতে চাইছে ডাক বিভাগ। পাশাপাশি তারা আরও জানিয়েছে, সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলি চালানোর জন্য অর্থমন্ত্রক থেকে যে কমিশন দেওয়া হয়, বছরের পর বছর তার কোনও রিভিউ হয়নি। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের অভ্যন্তরীণ গাফিলতির কারণেই যোগাযোগ মন্ত্রকের আওতাধীন ডাক বিভাগ ক্রমশ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের হয়রানি ও দুর্ভোগের শঙ্কা বাড়ছে।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, ডাক বিভাগের মোট খরচের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মী ও অফিসারদের বেতন এবং পেনশন খাতেই খরচ প্রায় ২০ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। ডাক বিভাগের আয় মূলত দু’টি খাত থেকে আসে। প্রথমটি ডাক পরিষেবা, যেখানে পোস্টাল স্ট্যাম্প, মানি অর্ডার এবং পণ্য ডেলিভারি করে আয় হয় তাদের। গত অর্থবর্ষে এই খাতে আয়ের অঙ্ক পাঁচ হাজার কোটি টাকায়ও পৌঁছয়নি। এছাড়া, সঞ্চয় প্রকল্পগুলি চালানোর জন্য অর্থমন্ত্রক থেকে তারা কমিশন বাবদ আদায় করতে পেরেছিল সাড়ে ৬ হাজার কোটির কিছু কম টাকা। ফলে কোনওভাবেই আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেনি তারা।
ডাক বিভাগের কর্তারা জানাচ্ছেন, এই সমস্যা কাটাতেই বেসরকারি সংস্থার পরামর্শ নিতে চলেছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহপত্র চাওয়া হয়েছে। সেখানে যেসব ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে কর্মিবর্গ পরিচালনার বিষয়টিও। ওই আগ্রহপত্র থেকে স্পষ্ট, বেতন ও পেনশন খাতে বিপুল খরচ কমিয়ে কীভাবে আয় বৃদ্ধি করা যায়, সেই পথ খুঁজতে চাইছে ডাক বিভাগ। পাশাপাশি তারা আরও জানিয়েছে, সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলি চালানোর জন্য অর্থমন্ত্রক থেকে যে কমিশন দেওয়া হয়, বছরের পর বছর তার কোনও রিভিউ হয়নি। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের অভ্যন্তরীণ গাফিলতির কারণেই যোগাযোগ মন্ত্রকের আওতাধীন ডাক বিভাগ ক্রমশ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের হয়রানি ও দুর্ভোগের শঙ্কা বাড়ছে।



