সংবাদদাতা, হবিবপুর: মোবাইল চালানোয় বাবার বকুনি। আর সেই অভিমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী ছেলে। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হবিবপুর ব্লকের কানতুর্কা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়াইল এলাকায়। কিশোরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকাজুড়ে। পুলিস সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম সুদেব মার্ডি(১৮)। পড়াশুনো ছেড়ে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করত সে। স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা, দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল হাতে গেম খেলতে দেখা যেত তাকে। এব্যাপারে তাকে বার বার নিষেধ করতেন তার বাবা। তবে নিষেধ অমান্য করেই মোবাইলে গেম খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকতো সে। মঙ্গলবার রাতে ছেলেকে খেতে ডাকেন তার বাবা। সেই সময় সুদেব বাবার ডাক অমান্য করে। নিজের মত মোবাইলে গেম খেলতে ব্যস্ত থাকে। বারবার খেতে ডাকার পর না আসায় বাবা রীতিমত তাকে বকুনি দিতে শুরু করেন। বকুনির পর অভিমানে সে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি আছড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। সেখানেই ফোনটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাবা-মা নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশে একটি গাছের ডালে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার মা। ঘটনা জানাজানি হতেই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বুলবুলচণ্ডী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সুদেবকে মৃত ঘোষণা করেন। কালু সোরেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিল সে। হঠাৎ করে এধরনের ঘটনা ঘটবে ভাবা যাচ্ছে না। দিনের পর দিন মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে যুবসমাজ। বিষয়টি খুব চিন্তার। মোবাইলের গেম এতটাই তাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছে, মোবাইল ছাড়া আর কিছুই চিন্তা করতে পারছে না তারা। মোবাইল হাতে না পেলেই এরকম কাণ্ড ঘটিয়ে বসছে। হবিবপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।



