Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মোবাইলে বুঁদ শৈশব, কালনায় ঘুড়ি ও সুতোর বিক্রি কমছে

মোবাইলে বুঁদ শৈশব, কালনায় ঘুড়ি ও সুতোর বিক্রি কমছে
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কালনা: মকর সংক্রান্তি মানেই আকাশে ঘুড়ির মেলা। তবে, দিন দিন কমছে ঘুড়ির বিক্রি। আকাশেও দেখা নেই পেটকাটি, চাঁদিয়ালের। মুঠোফোনে বন্দি হয়েছে শৈশব। কালনার বাজারগুলিতে আগে ঘুড়ির দোকানে যে ভিড় দেখা যেত সেই দোকানগুলি এখন ফাঁকা। যাতে বিক্রি না হয়ে প্রচুর ঘুড়ি, সুতো দোকানেই পড়ে রয়েছে। মাথায় হাত পড়েছে ঘুড়ি ব্যবসায়ীদের।  শিশু, কিশোর বয়সে ঘুড়ি ওড়ানো এক আনন্দ উৎসব। ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে বাবা-মায়ের বকুনি খায়নি এমন মানুষ কমই আছে। রাত পোহালে পয়লা মাঘ বুধবার কালনা মহকুমাজুড়ে ঘুড়ির উৎসব। বাজারে এসেছে নানা রকমের ঘুড়ি। অথচ, তেমনভাবে ঘুড়ি বিক্রি নেই বলে দাবি বিক্রেতাদের। শিশু, কিশোরদের মোবাইল কেড়ে নিয়েছে কৈশরের ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ। শহরের প্রবীণরা বলেন, মোবাইল কেড়েছে শৈশবের আনন্দ। সুতো মাঞ্জা দেওয়া, ঘুড়ি তৈরি করাছিল খুবই আনন্দের। স্কুল ছুটির শেষে মাঠে মাঠে চাঁদিয়াল, পেটকাটি উড়তে দেখা যেত। আর ঘন ঘন শোনা যেত ‘ভোকাট্টা’ বলে চিৎকার। 
Advertisement
প্রতিবছর উৎসবের দু’-চারদিন আগে থেকেই ঘুড়ি ও সুতোর ব্যাপক বিক্রি শুরু হয়। এবার উৎসবে তেমন উচ্ছ্বাস দেখতে পাচ্ছেন না বলে দাবি ঘুড়ি ব্যবসায়ীদের। এদিকে চীনা মাঞ্জা নিয়ে চিন্তিত প্রশাসন। চীনা মাঞ্জার বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ধরপাকড় করলেও বেশকিছু অসাধু ঘুড়ি বিক্রেতারা এই নিষিদ্ধ সুতো বিক্রি করছে বলে অভিযোগ।
বারুইপাড়ার ঘুড়ি বিক্রেতা চিত্ত সরকার বলেন, একসময় ঘুড়ির মরশুমে ২৫-৩০ হাজার টাকার ঘুড়ি বিক্রি হতো। কয়েক বছর ধরে উৎসবের দিন কয়েক আগে থেকে উৎসবের দিন পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকার ঘুড়ি বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ছোটদের মোবাইলের প্রতি আসক্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো হারিয়ে যেতে বসেছে।
কালনার প্রবীণ বাসিন্দা তুহিন মুখোপাধ্যায়, অমল কর্মকার বলেন, আমাদের সময় ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য বাবা-মায়ের কত বকুনি খেয়েছি। ঘুড়ি ভোকাট্টা হলে লাঠি নিয়ে কাটা ঘুড়ির পেছনে ছুটেছি। গাছে উঠেছি। আজকের শিশু, কিশোররা মোবাইলের নেশায় বুঁদ।
সম্পর্কিত সংবাদ