Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

স্বপ্নভঙ্গের মঞ্চে নীরব প্রতিজ্ঞা এমবাপের

কাতার বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে হারলেন এমবাপে। হতাশা ও নীরব কষ্টের মাঝে তাঁর প্রতিজ্ঞা। বিস্তারিত জানুন।

স্বপ্নভঙ্গের মঞ্চে নীরব প্রতিজ্ঞা এমবাপের
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়: কারও কান্না ঝড়ের মতো আছড়ে পড়ে। কেউ আবার তা লুকিয়ে রাখেন মানসিক কাঠিন্যের আড়ালে। কিলিয়ান এমবাপে দ্বিতীয় দলে। মঙ্গলবার ডালাসে ফ্রান্সের স্বপ্নভঙ্গের পর তাঁর মুখে হাহাকার ছিল না। ছিল  নীরবতা। ভিতরে ভেঙে পড়েও বাইরে নিজেকে গুছিয়ে রাখার নিরন্তর লড়াই। চারপাশে স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাস, লাল-সমুদ্রের মতো গ্যালারির গর্জন কিলিয়ানের কানে যেন পৌঁছাচ্ছে না। হারিয়ে গিয়েছেন অচেনা শূন্যতায়। টিভির পর্দায় এমন এমবাপেকে দেখে অনেক বাঙালিরই চোখ ছলছল করে উঠেছে। তিনি তো আমাদের মতোই! আনন্দে শিশুর মতো হেসে ওঠেন। আর্মড ক্রস বা ফ্লুট সেলিব্রেশন করেন। আর ব্যর্থতায় হতাশায় ডোবেন। 

Advertisement

কান্না যতই আড়াল করুন না কেন, এমবাপের ভিতরে তখন এলোমেলো কালবৈশাখী। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ০-২ পিছিয়ে থাকার পরও হ্যাটট্রিক করে যিনি ম্যাচ টাই-ব্রেকারে নিয়ে গিয়েছিলেন— সেই ছেলেটাই মঙ্গলবার তিকি-তাকার ফাঁদে আটকে পড়লেন। যে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য তাঁর পরিচয়, যে ক্ষিপ্রতা প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ায়—তা হারিয়ে গেল রড্রি-ফাবিয়ান-ওলমোর ত্রিভুজে। এমবাপের পায়ে বল এলেই স্পেনের দুই-তিনজন ফুটবলার ছুটে এলেন। জায়গা নেই, সময় নেই, শুধুই জমছিল হতাশা। না, এই এমবাপেকে আমরা কেউই চিনি না। হয়তো খোদ কিলিয়ানের কাছেও অচেনা।
ম্যাচ শেষে শরীরটাকে কোনোরকমে সাইড লাইনে টেনে নিয়ে গেলেন। পথে বারকয়েক জার্সিটা তুলে ঘামে ভেজা মুখ মুছতে দেখা গেল তাঁকে। তবে তার আড়ালে যে কষ্টটা লুকিয়ে, তা নজর এড়াল না। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ এসে এমবাপেকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কীভাবে শান্ত হবেন ফরাসি তারকা? এই রাত তো তাঁরই হতে পারত। যতই স্পেন পরিকল্পনামাফিক মাঠে নামুক না কেন! ইতিহাস সাক্ষী, ব্যক্তিগত মুন্সিয়ানার কাছে বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে কোচের কৌশল। তাহলে কিলিয়ান কেন পারলেন না লুই ডে লা ফুয়েন্তের স্ট্র্যাটেজি ভেঙে দিতে? এই প্রশ্ন যেন তাঁকেই তাড়া করছে। কিলিয়ান এমবাপে সত্যিই পারলেন না নায়ক হতে। দলের প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে না পারা তারকা থেকে গেলেন ট্র্যাজিক হিরো হয়ে।
এমবাপে এবার এগিয়ে গেলেন ফরাসি গ্যালারির দিকে। পিন ড্রপ সাইলেন্স। অনুরাগীদের কেউ দু’হাতে মুখ ঢেকেছেন, কারও চোখে জল। এমবাপে করতালি দিয়ে তাঁদের ধন্যবাদ জানালেন। আজ তিনি নায়ক নন। এক পরাজিত যোদ্ধা। কিন্তু এটাই তাঁর শেষ লড়াই নয়। এই আক্ষেপ, নীরব কষ্ট, থমকে যাওয়া রাত— সবকিছুই একদিন জ্বালানি হয়ে উঠবে। স্পেনের সঙ্গে দেখা হবে কোনো একদিন। হয়তো পরের বিশ্বকাপেই। সেদিন মিটবে এই আক্ষেপ। অনুরাগীরাও জানেন, তাঁদের নায়ক হার মানার পাত্র নন। রাজার মতোই ফিরবেন কিলিয়ান এমবাপে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ