আটলান্টা, ১৬ জুলাই: ২৪ বছর পর আটলান্টায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। শিরোপার দৌড়ে শুরু থেকেই অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত দুই দলই নক-আউট পর্বে ধারাবাহিক জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু আজ সেমি-ফাইনালে জয় ছিনিয়ে নিল আর্জেন্তিনা।
ম্যাচ শুরুর কিছু মিনিটের মধ্যেই ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসেন ওপর করা এক ফাউলকে ঘিরেই ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় ঘটনাটি আর বড় আকার ধারণ করেনি। প্রারম্ভিক পর্বে বলের দখল নিয়ে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যাম, ডেকলান রাইস ও হ্যারি কেনকে ঘিরে একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করে। অন্যদিকে মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্ডেজের নেতৃত্বে আর্জেন্তিনাও পাল্টা আক্রমণ চালায়, তবে শেষ মুহূর্তে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচে একাধিক ফাউল হওয়ায় খেলা বারবার থেমে যায় এবং উভয় দলই বেশ কয়েকটি ফ্রি-কিক পায়। তবে কোনো দলই সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করতে ব্যার্থ হয়। প্রথমার্ধে ৩৮ মিনিটে অ্যান্ডারসনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। আর এই ৩৮ মিনিটের ব্যাবধানে মোট ১৬টি ও প্রথমার্ধে মোট ১৯টি ফাউল করে দুই দল। আবার কিছু মিনিট পরেই হলুদ কার্ড পায় বিপক্ষ আর্জেন্তিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই বলের দখল ছিল আর্জেন্তিনার পায়ে। কিন্তু ৫০ মিনিট শেষেও ফল শূন্যতেই আটকে থাকে তারা। অবশেষে ৫৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের অ্যান্টনি গর্ডন জালে বল জড়িয়ে আর্জেন্তিনার বিপক্ষে ১-০ ব্যাবধানে এগিয়ে যায় তারা। এরপর থেকেই আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্তিনা। তাদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে যেকোনো ভাবেই সমতা ফেরানোর। একাধিকবার চেষ্টা করলেও জালে বল পাঠাতে পারেনি তারা। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারাদেসকে বদলে নিকোলাস গঞ্জালেজকে মাঠে নামায় আর্জেন্তিনা। এবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে আনতে চায় নীল বিগ্রে়ড। সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় ৬৯ মিনিটে নিকোলাস গঞ্জালেজর একটি দুর্দান্ত হেডে গোল মুখ খুলে যেতেই তা রুখে দেয় গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড। এরপরে একাধিকবার বল গোলমুখ হলেও সমতায় আসতে পারেনি লিওরা। অবশেষ ম্যাচের ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্ডেজর গোলে সমতা ফেরে ম্যাচের। তার পর একেরপর এক গোল করার চেষ্টা করে আর্জেন্তিনা। সমতা ফিরতেই আরো আক্রামণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্তিনা। ৯০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সংযোজিত সময়ে লায়োনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে লাওতারো মার্তিনেজ গোল। সেই সুবাদে ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্তিনা।
উল্লেখ্য,ফিফা বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত মোট ছ'বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্তিনা । শেষবার দু'দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০০২ সালে। সেবার শেষ হাসি হেসেছিল ইংরেজরা। গ্রুপ ম্যাচে প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেন ডেভিড বেকহ্যাম। ১-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে ইংরেজরা। চলতি আসরে রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে নকআউট যাত্রা শুরু করে স্কোলোনির নীল-সাদা বাহিনী। এরপর রাউন্ড অব ১৬-এ মিশরের বিপক্ষেও ৩-২ গোলের কঠিন লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়েছিল আর্জেন্তিনা। অন্যদিকে কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে শুভসূচনা করে থ্রি লায়ন্স ইংল্যান্ড। রাউন্ড অব ১৬-এ মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে হাইলাইটেড ছিলেন হ্যারি কেন। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে টমাস টুচেলের এই দল।