ডালাস: স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে একই সারিতে বসে জাভি, কাসিয়াস, র্যামোস, পুওলরা। ২০১০ সালে তাঁদের হাত ধরেই প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল স্পেন। তারপর কেটেছে দীর্ঘ ১৬ বছর। এই পর্বে ব্যর্থতাই সঙ্গী স্প্যানিয়ার্ডদের। গত তিনটি আসরে শেষ ষোলোর গণ্ডি টপকাতে ব্যর্থ লা রোহা ব্রিগেড। তবে মঙ্গলবার ফ্রান্সকে হারিয়ে ফের বিশ্বকাপে ফাইনালে জাবি-ইনিয়েস্তাদের উত্তরসূরিরা। আর দলকে খেতাবি লড়াইয়ের টিকিট এনে দিয়ে কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তের গলায় ২০১০ বিশ্বকাপের স্মৃতি পুনরাবৃত্তির সুর। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জয়ের পর স্পেন কোচ জানান, ‘দু’বারের বিশ্বসেরা দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলাম। ছেলেদের বলেছি, ওদের দেখিয়ে দিতে যে আমারাও কম নয়। মাঠে সেটাই হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিপক্ষকে টেক্কা দিতে সফল। এই জয় তৃপ্তির। তবে আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। ইতিহাস স্পর্শ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। ২০১০ বিশ্বকাপের সেই স্মৃতি আবার দেশবাসীকে উপহার দিতে চাই।’
২০২২ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরই সিনিয়র দলের দায়িত্ব নেন ফুয়েন্তে। দীর্ঘ সময় ধরে স্পেনের বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্ব সামলানো এই অভিজ্ঞ কোচ প্রতিটি ফুটবলারকে চেনেন হাতের তালুর মতো। তাই ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামসদের সঙ্গে শিক্ষক নন, বন্ধুর মতো মেশার চেষ্টা করেন ফুয়েন্তে। আর সেটাই এই দলের মূলধন। স্পেন কোচ বলেন, ‘আমাদের ড্রেসিং-রুমে ইগোর কোনো জায়গা নেই। সকলেই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহল। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগে আমাদের কেউ ধর্তব্যের মধ্যে ধরেনি। তাতে ভালোই হয়েছে। চাপ ছিল ওদের উপরেই। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সবচেয়ে ভালো ফর্মে রয়েছি আমরা। ফাইনালেও তা বজায় রাখতে হবে।’
টুর্নামেন্টের অপর সেমি-ফাইনালে আর্জেন্তিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। খেতাবি লড়াইয়ে স্পেন কোচের পছন্দ মেসিরাই। সেক্ষেত্রে ইউরো সেরা আর কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে না হওয়া ফিনালিসিমা ফাইনালের আক্ষেপটা মিটবে। এই প্রসঙ্গে ফুয়েন্তের সংযোজন, ‘কোনো দলই সহজ নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি ফাইনালে মেসিদের দেখতে চাইব।’