নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মায়াপুর হতে চলেছে ‘নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি’। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ইসকনের রথযাত্রার সূচনালগ্নে একথাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও বলেন, ‘৯ দিনের মধ্যে একদিন মায়াপুরে যাব। কোনো কর্মসূচিতে নয়, কীর্তনে অংশ নেব। এখানকার বহু প্রভুর সঙ্গে ২০-২৫ বছর ধরে জন্মাষ্ঠমী, দোল উত্সব, অন্নকূট, গোবর্ধন পূজায় কীর্তন করেছি।’ এরপরেই সকলের অনুরোধে এক লাইন কীর্তনও শোনান মুখ্যমন্ত্রী।
সূচনালগ্নে প্রবল বৃষ্টি মাথায় করেই পথে ফুল ছড়ান, চন্দন জলে সিক্ত করেন শুভেন্দুবাবু। স্বর্ণঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কারও করেন। নারকেল ফাটিয়ে, রথের দড়িতে টান দিয়ে রথযাত্রার সূচনা করেন। এদিন নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। রথযাত্রায় রাজ্যবাসীকে সরকারের তরফে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘৭১তম রথযাত্রার শুভলগ্নে মন্দিরে রাধামাধবের আরতি করেছি। শ্রীল প্রভুপাদ মহোদয় যে ঘরে থাকতেন, সেই কক্ষ দর্শন করেছি। প্রণাম নিবেদন করে ধুলা মাথায় নিয়েছি। প্রভু জগন্নাথদেবকে আরতি করে এই রথযাত্রা উত্সবের মূল কার্যক্রমে এসেছি। যে ভক্তি আন্দোলন একটা সময় প্রভু চৈতন্যদেব শুরু করেছিলেন, শ্রীল প্রভুপাদ গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’
মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, কলকাতার ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাওয়া-দাওয়ার দায়িত্ব আগামী ১ আগস্ট থেকে ইসকনকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকার শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আর আধিকারিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘসহ আধ্যাত্মিক প্রচারক, মানুষকে সেবা করেন যাঁরা, তাঁদের নিয়েই বাংলার নবনির্মাণে এগিয়ে যাব।’ পুরীধামকে সম্মান করে এরাজ্যে ‘ধাম’ শব্দটি সরকারের তরফে সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।