


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: আগামী ১৪ মার্চ ফের অসম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটমুখী রাজ্য, তায় ডবল ইঞ্জিন। ঝুলি ভরতি প্রকল্প-প্যাকেজ নিয়েই বরাক উপত্যকা ও শিলচরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। আর তাঁর ওই সফরের পর? ভোট ঘোষণা। অন্তত তেমনটাই খবর কমিশন সূত্রে। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত। এর মধ্যে অসমে শুধু স্পেশাল রিভিশন হয়েছে। বাকি তিন রাজ্যেই এসআইআর। বাকি থেকে গিয়েছে বাংলা। লাফিয়ে বাড়তে থাকা লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি, কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার তুঘলকি সিদ্ধান্তের অভিযোগ এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ। ফলে আগামী শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেও তা সম্পূর্ণ হবে না। সূত্রের খবর, ১ কোটির উপর নাম বাদ রেখেই ঘোষণা হবে এই তালিকা। কারণ, খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। পরবর্তী স্ক্রুটিনিতে কয়েক লক্ষ নাম ঢুকলেও ১০ লক্ষের মতো ভোটার বাদও গিয়েছেন। আরও ৫০ লক্ষ নাম রয়েছে যাচাইয়ের জন্য। এঁদের মধ্যে বহু নাম অবশ্য অতিরিক্ত তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবে। তবে তার জন্য ভোট ঘোষণা আটকে থাকবে না। শনিবার তালিকা প্রকাশের পর আপত্তি জানানোর জন্য ১০ দিন সময় দেওয়া হবে। তারপর প্রধানমন্ত্রী অসম সফরে যাবতীয় ভোট-প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরলেই নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে কমিশন। তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং পশ্চিমবঙ্গ—একসঙ্গে। আর সেই তারিখটা ১৭ মার্চ হওয়ারই সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া অসম এবং কেরলের নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে কমিশন সূত্রে।
গতবার (২০২১ সালে) ২৬ ফেব্রুয়ারি হয়েছিল ভোট ঘোষণা। এবার এসআইআর সেই সমীকরণ ধরে এগনোয় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ, ৭ মে’র মধ্যে সরকার গঠন করতেই হবে। কারণ, ওইদিনই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ শেষ। নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রথম দফার ভোটের জন্য ২৮ থেকে ৪২ দিন পর্যন্ত সময় দিতেই হবে। ১৭ মার্চও যদি নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়, তাহলে ভোট শুরু হতে এপ্রিলের শেষ দিক হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তিন দফার বেশি ভোট বাংলায় হবে না। সেটাই বলছে কমিশন। যেহেতু মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলা যায়, তাই এসআইআরের অতিরিক্ত তালিকা সেই দিন পর্যন্ত প্রকাশ হলেও সমস্যা হবে না। তবে কমিশন সূত্রে এও জানা যাচ্ছে, ৮ মার্চ কিছু রাজ্যে নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। বাকিটা ১৭ তারিখ। এবং অসম-বাংলার দিনক্ষণ ১৭ মার্চের আগে ঘোষণা হবে না বলেই খবর। ইতিমধ্যে অসমে ভোট প্রস্তুতি দেখে এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বুধ-বৃহস্পতিবার পুদুচেরি, তামিলনাড়ু। এরপর কেরল। আর শেষে পশ্চিমবঙ্গ। তবে বাংলার লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ক্যাটিগরির সমস্যা মেটাতে তৎপরতা বেড়েছে বাংলায়। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। বুধবারও শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কমিশনের কাছে যা নথি জমা পড়েছে, তা আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে জুডিশিয়াল অফিসারদের হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি নথি নিয়ে আদালতের ব্যাখ্যা, শুধু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য হবে না। সঙ্গে দিতে হবে শংসাপত্রও। এ বিষয়ে কমিশনের কোনো আপত্তি চলবে না।