


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পেয়েই কারও মাথা ঝিমঝিম, আবার কারও গা গুলিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল। জীবনে প্রথম বড় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে রাত জেগে পড়াশোনা ও মানসিক চাপ থাকার কারণে এমনটা হয়েছে বলে অনুমান। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন মোট আটজন পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারমধ্যে নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতাল এবং এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিয়েছে চারজন পরীক্ষার্থী। বাকিদের সেন্টারে মেডিকেল টিমের সহযোগিতায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কঠিন ছিল না। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীর বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ভালো ছিল। পরীক্ষা ভালো হয়েছে। তবুও অঙ্ক পরীক্ষা নিয়ে ভয় থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ল বেশ কয়েকজন পড়ুয়া। এদিন হলদিয়ার বাড়ঘাসিপুর হাইস্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্রে এক ছাত্রের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার হয়। চকদ্বীপা হাইস্কুলের ওই ছাত্রের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের রাজা রামচক শিক্ষানিকেতনের ছাত্র শেখ রাকিবুল ইসলাম নন্দীগ্রাম ব্রজমোহন গার্লস হাইস্কুলের সেন্টারে পরীক্ষা দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্যালাইন দেওয়া হয়। সেন্টার সেক্রেটারি তথা নন্দীগ্রাম বিএম গার্লসের টিআইসি নন্দিতা রক্ষিত দিন্ডা হাসপাতালে যান। পুলিশ কর্মীরাও হাসপাতালে পৌঁছান। একইভাবে মনুচক মিলন বিদ্যাপীঠের সুজন পাত্র আশদতলা নিবেদিতা কন্যা বিদ্যামন্দিরে পরীক্ষা দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকেও নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্যালাইন দেওয়া হয়। হাসপাতালে বসে তারা পরীক্ষা দেয়।
এদিন পটাশপুর-২ ব্লকের অধীন খাড় হাইস্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্রেও দুই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এগরা স্বর্ণময়ী গার্লস হাইস্কুলের সঞ্জনা দাস ও পাঁচরোল হাইস্কুলের সঙ্গীতা ঘোড়ই পরীক্ষা দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়। তাদের এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরীক্ষা দেয় তারা। এছাড়াও পাঁশকুড়া ও ময়নার কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রেও পরীক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।
সোমবার মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা খতিয়ে দেখতে পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক মাধ্যমিক সেন্টার ভিজিট করেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন মাধ্যমিক পরীক্ষার ডিস্ট্রিক্ট কনভেনার সত্যজিৎ কর। রামানুজবাবু নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাট আদর্শ হাইস্কুল, শ্রীকৃষ্ণপুর হাইস্কুল, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ডিমারি গার্লস ও রামচন্দ্রপুর হাইস্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষা হচ্ছে। বেশকিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। সেইসব পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে। মোবাইল লুকিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ায় চেকিং এড়িয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আধ ঘণ্টা আগে মোবাইল বের করার ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রছাত্রীদের ফর্ম ফিলআপ এবং অ্যাডমিট বিতরণ নিয়ে স্কুলগুলিকে আরও সচেতন হতে হবে। এই কাজে বেশকিছু স্কুলের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিলি না হওয়া ৫০টি অ্যাডমিট কার্ড আমার গাড়ির মধ্যে এখনও রয়েছে। আগামী দিনে স্কুলগুলিকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।