সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: একই জায়গায় নাকি দু’বার বাজ পড়ে না! প্রচলিত প্রবাদ এমনই। কিন্তু ইডেনে কোটিপতি লিগে পর পর দু’মরশুমে সেটাই ঘটল। গতবছর পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে কলকাতার ম্যাচ ভেস্তে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। যতই পূর্বাভাস থাক না কেন, কে ভেবেছিল, তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে সোমবারও? বিশেষ করে দিনভর যেখানে গনগনে রোদে পুড়েছে শহর!
বৃষ্টি থামার পর ম্যাচ শুরুর কাট-অফ টাইম ছিল রাত ১১.১৪। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির উদ্যাগে মরিয়া চেষ্টা শুরু হয়েওছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর পরিস্থিতি ছিল না। শ্রেয়সদের বিরুদ্ধে প্রকৃতির রোষানল নাইটদের কাছে অভিশাপ না আশীর্বাদ, সেই তর্ক অবশ্য হতেই পারে। এক পয়েন্ট তো এল! দু’ওভারের মধ্যে যেভাবে ফিন অ্যালেন (৬) ও ক্যামেরন গ্রিন (৪) ক্যাচিং প্র্যাকটিস করিয়ে ডাগ-আউটে ফিরলেন, তাতে অশনি সংকেতই মিলছিল। পরাজয়ের হ্যাটট্রিকের খাঁড়া ঘাড়ের উপর নির্ঘাত আছড়ে পড়ার প্রেক্ষাপট প্রস্তুত। ক্রিকেট যতই গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা হোক না কেন, সকাল দেখে অনেকটাই বোঝা যায় দিনটা কেমন যেতে পারে। চলতি আসরে নাইটদের ভবিষ্যৎ কিন্তু মেঘলা আকাশের মতোই কালো। ২৫ কোটি টাকার গ্রিন টানা তিন ম্যাচ আয়ারাম-গয়ারামে পরিণত। বোলিংয়ের কথা ছেড়েই দিন, অজি তারকা ব্যাট হাতে ডুবিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। কোন কুক্ষণে যে নেওয়া হয়েছিল!
শাহরুখ খান এদিনই প্রথম ইডেনে খেলা দেখতে এলেন। কিন্তু কী দেখলেন? না স্কোরবোর্ডে ৩.৪ ওভারে তাঁর সাধের কেকেআরের সংগ্রহ ২৫-২। ছয় ফুট দুই ইঞ্চির জেভিয়ার বার্টলেটের বিষাক্ত সুইংয়ে স্কুলপড়ুয়ার মতো খোঁচা দিয়েছেন দুই বিদেশি। ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানে ছয় বলে ৮ করে ক্রিজে। সঙ্গী অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর সাত বলে ৭। কে বলবে, এটা ধুমধাড়াক্কা ফরম্যাটের স্কোর? টিম ডেভিড, সমীর রিজভি, সরফরাজ খানরা যেখানে ছক্কার নেশায় মাতছেন, সেখানে নাইটরা যেন আলোকবর্ষ দূরে বসে ঢেউ গুনছে। হাত নেড়ে ভক্তদের বিদায় সম্ভাষণ জানানো ‘বীর-জারা’র নায়ক নিশ্চয়ই উপলব্ধি করলেন, তাঁর দলে বীরত্ব ব্যাপারটাই উধাও!
এদিন ম্যাচ শুরুর আধঘণ্টা আগেই চমক মিলেছিল। নাইটদের একাদশে নেই সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী। নারিন নাকি অসুস্থ। আর বরুণের নাকি চোট। অথচ, দু’জনকেই ম্যাচের আগে মাঠে দেখা গেল। নারিন তো হাতও ঘোরালেন। সেজন্যই জল্পনা, জঘন্য ফর্মই জোড়া ফলার না খেলার কারণ নয় তো? ২০১৯ সালে দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচের পর কেকেআর মানেই এই স্পিন জুটি!
টস জিতে রাহানের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত অবশ্য আরও বিভ্রান্তিকর। বৃষ্টির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কোন ক্রিকেটীয় যুক্তিতে তিনি ব্যাট করলেন? মেঘলা পরিবেশে টস জিতে রান তাড়া করাই তো গোল্ডেন রুল। দু’দিন ধরে পুরো ঢেকে রাখা পিচকেই বা কেন রাহানের শুকনো মনে হল কে জানে। নির্ঘাত ‘ব্রেন ফেড’ হয়েছিল। ঝড়ের দাপটে কাঁপতে থাকা প্রেসবক্সের মতোই ক্যাপ্টেন সহ গোটা দলটাই যে কাঁপছে!