সংবাদদাতা, মানিকচক: গোপালপুরে গত দু’দিনে গঙ্গা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে ভাঙন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বাঁধ থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে গঙ্গা। ভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় ভাঙনের কাজ হলেও গোপালপুরকে অজানা কারণে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেই সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত ভাঙন রোধের কাজ শুরুর আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় অপরিপক্ক অবস্থাতেই পাট কাটতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।
মানিকচক ব্লকের গোপালপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সহবতটোলা ও এলাহিটোলা গ্রাম। আষাঢ় মাস থেকেই ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে এই দুই গ্রামের নদীর পাড়ে। গত রবিবার থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। নদীপাড়ের প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে চলছে ভাঙন। প্রতিদিন কিছুটা করে জমি গিলছে গঙ্গা। কিন্তু তারপরেও সেচ দপ্তর কোনো কাজ বা পরিদর্শন না হওয়ায় রীতিমতো চিন্তিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ সওদাগর আলি বলেন, ভূতনি, রতুয়া, বৈষ্ণবনগরে ভাঙন প্রতিরোধে ভালো কাজ হচ্ছে। কিন্তু গোপালপুরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দ্রুত কাজ না হলে ভয়াবহ রূপ নেবে গঙ্গা।
গঙ্গার ধারে অনেকে পাট চাষ করেছেন। ভাঙনের আতঙ্কে গোপালপুরের কৃষকরা পাট কেটে নিচ্ছেন। সহবতটোলার পাট চাষি সাবদুল শেখ বলেন, আর একমাস জমিতে পাট থাকলে পরিপক্ক হত। কিন্তু তার আগেই পাট কেটে নিতে হচ্ছে। এবিষয়ে মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।