


সংবাদদাতা, ঝালদা: পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলজুড়ে ফের হাতির তাণ্ডবে গ্রামবাসীদের ঘুম উবেছে। বিশেষত বাঘমুণ্ডি ও ঝাড়খণ্ডের সীমানাবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েকদিন ধরে হাতির হানায় বিঘার পর বিঘা ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। সেই সঙ্গে এবার বুনোদের নজর পড়েছে মরশুমি ফলের বাগানের উপর। এলাকা থেকে হাতি তাড়াতে বনদপ্তর কড়া পদক্ষেপ করুক-এমনটাই চাইছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি গভীর রাতে একপাল হাতি বাঘমুণ্ডি রেঞ্জের শ্রাবণ্ডী এলাকায় হানা দেয়। সেখানে দীপক মাহাতর প্রায় ২৫ডেসিমলের আমবাগানে ঢুকে পড়ে। মরশুমের শুরুতে গাছে তখন থোকা থোকা আম ধরেছে। হাতির পালটি বেশ কিছু আমগাছের ডালপালা মড়মড় করে ভেঙে ফেলে। প্রচুর আম খেয়ে ও পায়ের তলায় পিষে নষ্ট করে দেয়। ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন দীপকবাবু। তিনি বলেন, এলাকায় প্রায়ই হাতির আনাগোনা লেগে থাকে। কিন্তু, এবার বড়ো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লাম। এখন সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে। বনদপ্তরের কাছে লিখিতভাবে ক্ষতিপূরণের আবেদন জানাব। বাঘমুণ্ডি ব্লকের সারিডি গ্রাম ও তার আশপাশেও হাতির হানা চলছে। একটি হাতি ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। যে কোনো সময়ে সেটি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে-এই আশঙ্কায় বনদপ্তর গ্রামবাসীদের অত্যন্ত সজাগ থাকার আবেদন জানিয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাতে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। বনদপ্তরের তরফে পুরো এলাকা কর্ডন করে রাখা হয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বনদপ্তর জানিয়েছে, মাঠা রেঞ্জের চরকপাথর মৌজায় একটি, টিকরটার মৌজায় পাঁচ-ছ’টি, অযোধ্যা রেঞ্জের গোবরিয়া মৌজায় তিনটি, ঝালদা রেঞ্জের খালারি মৌজায় একটি, চককেরিয়ারি ও ঝাড়খণ্ড সীমানায় সাত-আটটি, বাঘমুণ্ডি রেঞ্জের সারিডি ও লাগোয়া আন্তঃরাজ্য সীমানায় একটি হাতি রয়েছে। কিছুদিন আগেই বাঘমুণ্ডিতে এক গৃহস্থের বাড়িতে একটি হাতি ঢুকে পড়েছিল। সেটি ঘরে মজুত ধান সাবাড় করার পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় থাকা একটি নলকূপ উপড়ে ফেলে দেয়।
বাঘমুণ্ডির বাসিন্দারা বনদপ্তরের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ। গ্রামবাসীরা জানান, ঝাড়খণ্ড সীমানা পার করে দলছুট হাতি হামেশাই এলাকায় ঢুকে পড়ছে। কিন্তু, বনদপ্তর হাতি তাড়ানো বা এলাকায় স্থায়ী নজরদারির ব্যবস্থা করছে না। স্থায়ীভাবে হাতির হানা রুখতে বনদপ্তর কার্যকরী পদক্ষেপ করুক-এমনই দাবি তাঁরা জানিয়েছেন। -নিজস্ব চিত্র