চতুর্থীর সন্ধ্যাতেই বর্ধমানে প্যান্ডেল, প্রতিমা দর্শনে ঢল
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চতুর্থীর সন্ধ্যাতেই পুজো হপিং শুরু করল বর্ধমান। নীলপুর, থেকে কেশবগঞ্জ চটি সব জায়গার মণ্ডপে ছিল সেলফি তোলা এবং ‘লাইভ’ এর হিড়িক। এদিন সন্ধ্যায় শহরের সমস্ত বিগ বাজেটের পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। শহরের বাসিন্দারা অবশ্য উদ্বোধনের অপেক্ষা না করেই বিকাল থেকেই বেরিয়ে পড়েন। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ধমান শহরে থিমের ছড়াছড়ি। আলোকসজ্জা, মণ্ডপ দর্শনার্থীদের মন জয় করে নিয়েছে। যোগশক্তি, ডানার আর্তনাদ, মনোস্কামনা, তাণ্ডব সহ নানা থিমে কমিটিগুলি একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া।

Advertisement

বর্ধমান শহরের পাশাপাশি বড়শুলের তিনটি পুজো মণ্ডপও নজর কেড়েছে। সেখানকার ইয়ংমেনস অ্যাসোসিয়েশন লালকেল্লার আদলে মণ্ডপ তৈরি করেছে। ঝাড়বাতি, মণ্ডপের সামনে সবুজ ধানখেত দর্শকদের মন জয় করবে। এখানকার জাগরণী ক্লাবের থিম রঙ্গমঞ্চ। পুজোর দিনগুলিতে পুতুল নাচের আয়োজন করা হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া একটা সময় মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। বড়শুলের মণ্ডপগুলি উদ্বোধন হবে পঞ্চমীতে। বর্ধমান শহরের উদ্বোধন পর্ব অবশ্য তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। 
বর্ধমানের জোড়ামন্দির পুজো কমিটির মণ্ডপে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখতে বিভিন্ন বয়সি লোকজন ভিড় করেন। থ্রি-ডি প্রজেকশনের কাজ রয়েছে মণ্ডপে। বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ার থিম আদিযোগী। কালনাগেট ব্যাংকপাড়া পুজো কমিটির মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছে অর্ধনারীশ্বরের কথা। বুড়িরবাগান পুজো কমিটি তাদের মণ্ডপে সমাজকে বার্তা দিতে চেয়েছে। মাতৃঋণ যে শোধ করা যায় না, সেটাই তারা থিমের আকারে মণ্ডপে তুলে এনেছে। ইছলাবাদ ইয়ুথ ক্লাবের মণ্ডপে ফিরে পাওয়া যাবে পুরনো দিনের স্মৃতি। তাদের থিম-‘পুরানো সেই দিনের কথা’।
চতুর্থীর সন্ধ্যা থেকে সবুজ সংঘের মণ্ডপ দেখতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা এসেছিলেন। দুবাইয়ের স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। এখানকার কারুকাজ দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সর্বমিলন সংঘ সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি তুলে ধরেছে। এদিন রাজ্যের মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র শহরের একাধিক পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। জেলার পুলিশ সুপার পুষ্পা বলেন, পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি শহরের বাসিন্দারাও প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। এই প্রত্যাশা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি সহায়তা ক্যাম্প করা হয়েছে। কোনো সমস্যা হলে শহরের বাসিন্দারা সেখানে জানাতে পারেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের পাশাপাশি মেমারি, কালনা, কাটোয়া, গুসকরা এবং বড়শুলেও পুজোর দিনগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বর্ধমান শহরের ষষ্ঠীর দিন থেকে জিটি রোডে যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, উৎসবের দিনগুলিতে সবাইকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।