নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রাচীন তমলুক পুরসভায় কর্মীদের একটা অংশ ফাঁকিবাজিকে কর্মজীবনের ‘নায্য দাবি’ বলেই ধরে নিয়েছিল। হাজিরা খাতায় সই করে হামেশাই নিজের কাজে বেরিয়ে যেতেন। কেউ ব্যাঙ্ক, কেউ পোস্ট অফিস, কেউ আদালত কিংবা ঘরের অন্য কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে অফিসে টুক করে ঢুকে পড়তেন। সাধারণ মানুষ পুরসভায় নানা কাজে এসে ভোগান্তির শিকার হতেন। ফাঁকিবাজিতে অভ্যস্ত কর্মীদের আটকাতে হিমশিম খাচ্ছিল পূর্বতন বোর্ড। দু’বছর আগে পুরসভায় ঘটা করে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালু হয়। কিন্তু, তার মেয়াদ ছিল মাত্র এক মাস। তারপর সেই আগের মতো হাজিরা খাতা ঘুরে আসে। কিছু সংখ্যক কর্মীর ফাঁকিবাজি অভ্যাসটাও বদলানো যাচ্ছিল না। তবে, এই মুহূর্তে পুরপ্রশাসক অনিরুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরায় কড়াকড়ি নিয়ম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। পুরসভার সকল কর্মীর জন্য ফেসিয়াল রিকগনিশন অর্থাৎ বিশেষ অ্যাপে মুখের গঠনের ভিত্তিতেই হাজিরা নথিভুক্ত করার নিয়ম কার্যকর করেছেন। সোজা কথায়, মুখ দেখিয়ে কাজে উপস্থিতি প্রমাণ করুন। আগামী সোমবার থেকেই তমলুক পুরসভায় এই সিস্টেম কার্যকর হচ্ছে।
পুরসভায় প্রায় ১২২ জন স্থায়ী কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের কর্মস্থল পুরসভার অফিস। এছাড়া, পাম্প অপারেটর, আরবান হেল্থ সেন্টারে কর্মরত পুরসভার কর্মীরাও রয়েছেন। প্রত্যেকের নিজের কর্মস্থলে ফেসিয়াল রিকগনিশনের মাধ্যমে হাজিরা নেওয়া হবে। সকলের মোবাইলে অ্যাটেনডেন্সের ওই অ্যাপ ইনস্টল করা হয়েছে। তাঁদের সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে কর্মস্থলে জয়েন করতে হবে। বিকাল ৫টা ১৫মিনিটে কর্মস্থল ছাড়ার হাজিরা দিতে হবে। ইমার্জেন্সি বিভাগে শিফ্টে ডিউটি করা কর্মীদের সিডিউল অনুযায়ী হাজিরা দিতে হবে।
জানা গিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে হাজিরা দিলে লেট অ্যাটেনডেন্স হিসেবে ওঠে যাবে। এভাবে প্রতি তিনটি লেট অ্যাটেনডেন্সের জন্য একটা অ্যাবসেন্ট ডে বা অনুপস্থিতি দিবস ধরা হবে। পুর প্রশাসক কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর হাজিরায় এই নয়া সিস্টেমের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। সেইমতো আগামী সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হচ্ছে হাজিরার এই নয়া পদ্ধতি। অতীতে বোর্ড বায়োমেট্রিক পদ্ধতি কার্যকর করতে গিয়েও সফল হয়নি। এখন দেখার বিষয়, নয়া অ্যাপ নির্ভর এই হাজিরা পদ্ধতি কতদিন চালু থাকে।
পুরসভার কর্মী মানব মিশ্র বলেন, ‘আগামী সোমবার থেকে ফেসিয়াল রিকগনিশন পদ্ধতিতে হাজিরা শুরু হবে। পুরসভার পক্ষ থেকে প্রত্যেককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের মোবাইলে ওই বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করা হয়েছে। তাঁরা ওই অ্যাপ চালু করে নিজের মুখের সামনে ধরলে হাজিরা নথিভুক্ত হয়ে যাবে।’