নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বৃহস্পতিবার ছুটির দিনে বাজারে উপচে পড়ল ভিড়। বহরমপুর থেকে ফরাক্কা, জলঙ্গি থেকে কান্দি সর্বত্রই বস্ত্রবিপণিতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। খুশির ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে জমিয়ে কেনাকাটা করছে মানুষ। কাপড় জামা শাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ঘর সাজানোর জিনিস ও খাওয়ার জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে। সাবেক নবাবি মুলুকে প্রায় প্রতিটি মসজিদ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বহু মানুষ বাড়ি রঙিন আলো দিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কড়া রোদ মাথায় নিয়েও বহু মানুষকে বাজারে ঘুরতে দেখা যায়। এদিন বহরমপুর সদরের খাগড়া বাজারে ছোট-বড় বস্ত্র প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভালোই বিক্রি হয়েছে। হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে। এবছর ধান, সর্ষে ও গম চাষ ভালো হওয়ায় ফসলের ভালো দাম মিলেছে চাষিদের। পাশাপাশি বহু পরিযায়ী শ্রমিক এসময় ভিন রাজ্য ও ভিন দেশ থেকে জেলায় ফেরেন। তাঁরাও খুশির ঈদে জমিয়ে বাজার করছেন। যে কারণে বাজারে বিক্রি বেড়েছে বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের।
বহরমপুরের এক নামী বস্ত্র প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার শেখর চাঁদ মারঠি বলেন, এবছর ঈদের বাজার খুব ভালো। ভালো বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত এই সময় শুক্র, শনি ও রবিবার ভালো বিক্রি হয়। তবে বৃহস্পতিবার ছুটি থাকায় বাজারে ভিড় উপচে পড়ে। এই জেলার বহু মানুষ বাইরে কাজ করে এই সময় বাড়ি ফেরেন। স্বাভাবিকভাবেই ঈদের সময় বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বহরমপুর সদর এলাকার বাইরের বহু মানুষ এসে বাজার করে বলেই বিক্রি ভালো হয়।
ইসলামপুরের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, আমি কেরলে থাকি। রাজমিস্ত্রির কাজ করি। তিন দিন আগে বাড়িতে ফিরেছি। প্রতিবছর ঈদের সময় বাড়ি আসি। এই সময় পরিবারের সকলের জন্য জামা কাপড় কেনা হয়। হাতে আর চার দিন বাকি। তাই বৃহস্পতিবার বহরমপুরের বাজারে এসেছি। পরিবারের সকলের জন্য পছন্দমত পোশাক কিনছি।
সাগরদিঘির বাসিন্দা ফতেমা খাতুন বলেন, আগেই পরিবারের সকলের জন্য শাড়ি ও পোশাক কিনেছি। এখন ঘর সাজানোর কয়েকটি জিনিস কেনার জন্য সদর বাজারে এলাম। তাড়াতাড়ি কেনাকাটা করছি। কারণ বিকেলে ইফতারের আগেই বাড়ি ফিরতে হবে।
বহরমপুরের মেহেদিপুরের বাসিন্দা শামিম আখতার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে শপিংমলগুলিতে ভালো ভিড় হচ্ছে। রবিবার সন্ধ্যার সময় বাজারে এসে ভিড়ের জন্য দেখে শুনে জিনিস কিনতে পারিনি। তাই এদিন দুপুরবেলাতেই বাজারে এসেছি। বাজারের সরু রাস্তায় কিছুতেই বাইক চালানো যাচ্ছে না। বাইক পার্কিং করে হেঁটে হেঁটে বাজার ঘুরতে হচ্ছে। কেনাকাটা করতে এসে অনেকেই সন্ধ্যায় ইফতার করে বাড়ি ফিরলেন। কেউ ঠান্ডা শরবত ও লস্যিতে গলা ভেজালেন। কেউ কেউ রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভোজন সারলেন। বহরমপুর শহরের রেস্টুরেন্টগুলিতে এদিন সন্ধ্যায় ভালো ভিড় দেখা যায়। বেলডাঙার বাসিন্দা কুতুবুদ্দিন শেখ বলেন, দুপুরের রোদ পড়তেই বিকেলের দিকে বাজারে এসেছি। লালবাগের এক বস্ত্র ব্যবসায়ী রহিম মণ্ডল বলেন, হাতেগোনা আর কয়েক দিন বাকি রয়েছে। এই সময় বাজারে ভিড় হওয়াটাই স্বাভাবিক। সমস্ত বাজারেই মানুষ কেনাকাটা করছে।