


সংবাদদাতা, খাতড়া: বছরের সারা সময় ধরে চাহিদা থাকলেও চৈত্র মাসে ফুল বিক্রির টান বাজারগুলিতে সেভাবে সচরাচর থাকে না। তবে বর্তমানে ভোটের মরশুমে বাজারগুলিতে গাঁদা ফুল ও মালার চাহিদা বেড়েছে। একদিকে ভোট, তার উপর এই সময়ে চলছে বিভিন্ন এলাকায় ২৪ প্রহর অনুষ্ঠান। যার জেরে চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ফুলের দাম। হাসি ফুটছে ফুল ব্যবসায়ীদের মুখে। উপকৃত হচ্ছেন চাষি থেকে ব্যবসায়ী সকলেই।
উল্লেখ্য, প্রায় বাড়িতে বা মন্দিরে বিভিন্ন পূজাঅর্চনা, বিয়ে বাড়ি সহ নানা কারণে কাঁচা গাঁদা ফুলের ব্যবসা বিভিন্ন বাজারে বাজারে বেশ ভালোই তৈরি হয়েছে। কিন্তু, চৈত্র মাসে ফুলের দোকানগুলিতে চলে মন্দা। বর্তমানে বাংলাজুড়ে বিধানসভা ভোটে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি পুরোদমে প্রচারে নামতেই গাঁদা ফুলের চাহিদা বেড়েছে। প্রচারে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে প্রার্থীরা ফুল ছুড়ে দিচ্ছেন। আবার কখনো প্রার্থীদের গলায় গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন আমজনতা। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রাইপুর, রানিবাঁধ ও তালডাংরা বিধানসভা এলাকায় গ্রামে গ্রামে বা পাড়ায় পাড়ায় একই ছবি সমস্ত দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ধরা পড়ছে। কিন্তু, এই তিন বিধানসভা এলাকায় ফুলের চাষ হয় না বললেই চলে। সমস্ত ফুল বিষ্ণুপুর মহকুমার কিছু এলাকা বা কোলাঘাট সহ দুর্গাপুর থেকে পাইকারি দরে আমদানি করা হয়। বিয়ে বাড়ির মরশুম ছাড়া বছরের অন্যান্য সময় ধরে গাঁদা ফুলের দাম কেজি পিছু ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই থাকে। তবে একটানা সময় ধরে ফুলের চাহিদা কখনো থাকে না। কিন্তু, বর্তমান সময়ে সমগ্র রাজ্যের পাশাপাশি খাতড়া মহকুমা জুড়ে নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের প্রচারের কারণে গাঁদা ফুলের চাহিদা বেড়েছে। ফুলের দামও বেড়েছে। এখন গাঁদা ফুল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে, কোথাও আবার গাঁদা ফুলের তৈরি করা মালাও বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০টাকা দরে। তবে বাজার অনুযায়ী দামের তারতম্য রয়েছে।
সিমলাপালের বচন মাঝি নামে এক কাঁচা ফুল ব্যবসায়ী বলেন, চৈত্র মাসে সেভাবে ফুল বিক্রি হয় না। অন্যবছর ব্যবসা চালিয়ে রাখার জন্য পাইকারি দরে যে ফুল আনতাম, বিক্রি না হওয়ায় পচন ধরত। অর্ধেক ফুল ফেলতে হত। কিন্তু, ভোটের জন্য ফুলের চাহিদা বেশ বেড়েছে। অন্যান্য বছর চৈত্র মাসে যে ব্যবসা হয় তার থেকে অনেক ভাল ব্যবসা হচ্ছে।
আবার তালডাংরার পাঁচমুড়া বাজারের ফুল ব্যবসায়ী জয়দেব গড়াই বলেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে গাঁদা ফুল বিক্রি করি, চৈত্র মাসের জন্য বাজার ভালো না থাকার কারণে অর্ধেক ফুল ফেলতে হত। কিন্তু, ভোটের জন্য বিক্রির চাহিদা বেড়েছে।