সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: নিতুড়িয়া ব্লকের বাথানবাড়ি ঘাটের উপর স্থায়ী সেতু তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবন -জীবিকার কথা ভেবে পাঞ্চেত জলাধারের মহেশ নদের উপর ডিভিসির প্রস্তাবিত ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। যতদিন না প্রকল্পের কাজ বন্ধ হবে এলাকার মানুষ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। রবিবার এলাকার সেতু নির্মাণ ও মৎস্যজীবী জীবন-জীবিকা রক্ষা কমিটি, দামোদর ভ্যালি বাস্তুহারা সংগ্রাম কমিটি, জমি রক্ষা কমিটি, মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির মতো একাধিক কমিটির সদস্য আন্দোলনে সামিল হয়। এদিন পাঞ্চেত জলাধারের চেকপোস্ট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক বাইক নিয়ে মিছিল করা হয়। মিছিল শেষে একটি পথসভা হয়। সেখানে নেতৃত্বরা তাঁদের দাবিপত্র তুলে ধরেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ পাঞ্চেত জলাধারের উপর ১৫৫ মেগাওয়াট ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করবে বলে জানিয়েছেন। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, জলাধারের উপর সোলার প্রজেক্ট হলে জলাধারের দুই পাড়ের শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মৎস্যজীবীর জীবন - জীবিকা সংকটের সম্মুখীন হবে। শুধু তাই নয় রায়বাঁধ ও গুনিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৫২ টির বেশি গ্রাম ব্লক সদর, থানা সদর সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কারণ ওই দুই পঞ্চায়েত এলাকার মানুষকে পাঞ্চেত জলাধারের উপর দিয়ে ব্লক এলাকার যেকোনও কাজের জন্য নৌকা পথে যাতায়াত করতে হয়। তাই সোলার প্রজেক্ট নির্মাণ বাতিলের জন্য জানুয়ারি মাস থেকে ডিভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে।
সংগঠনগুলির তরফ থেকে রাজেন টুডু, পরেশ মারান্ডি বলেন, আমাদের পূর্বভপুরুষরা ভেবেছিলেন, ডিভিসির পাঞ্চেত জলাধার হলে এলাকার আর্থসামাজিক পরিবর্তন হবে। তাই জলের দরে জমি দিয়ে জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ডিভিসির দ্বারা এলাকার মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এলাকার মানুষের জন্য ডিভিসির সামাজিক উন্নয়নে যে দায়বদ্ধতা থাকার কথা তা কখনই লক্ষ্য করা যায়নি। জলাধারের উপর নির্ভর করে যে কয়টি পরিবার বেঁচে রয়েছে প্রজেক্ট হলে তারা পথে বসবে। যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তা আমাদের এলাকার কি কাজে লাগবে? তাই বিদ্যুৎ নয় আমাদের সেতু চাই। পাশাপাশি জলাধার মৎস্যজীবীদের জন্য মুক্ত থাকুক।