Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬

মাওবাদী আতঙ্ক অতীত, বস্তারের অবুঝমাড়ে এখন কফির ‘সুবাস’

মাওবাদী আতঙ্ক অতীত, বস্তারের অবুঝমাড়ে এখন কফির ‘সুবাস’
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুতপা গুহ, অবুঝমাড়: ছত্তিশগড়, বস্তার, অবুঝমাড়। এই নামগুলো উচ্চারিত হলেই এতদিন মনে পড়ত মাওবাদী আতঙ্ক, দুর্গম জঙ্গলের কথা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ‘মাওবাদীমুক্ত ভারত’ ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই অপারেশনেই ধীরে ধীরে পরিচয় বদলাতে শুরু করে বস্তার, অবুঝমাড়ের। একসময়ের ‘মাওবাদী দুর্গ’ অবুঝমাড় কফি চাষকে সামনে রেখে উন্নয়নের নতুন পথে হাঁটছে। কফি বোর্ডের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, অবুঝমাড়ের জলবায়ু, বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা, মাটির ধরন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা—সবই কফি চাষের অনুকূল। প্রবলভাবে। সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তব রূপ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ছত্তিশগড়। প্রশাসনের আশা, এই প্রকল্প সফল হলে শুধু এলাকার অর্থনীতিই শক্তিশালী হবে তা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা আদিবাসী ও গ্রামীণ পরিবারের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং আয়ের নয়া দিগন্ত খুলে দেবে। বস্তারের জেলা পঞ্চায়েতের সিইও আকাঙ্খা খালকো জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি মাওবাদী মুক্ত হয়েছে অবুঝমাড়। ইতিমধ্যেই কফি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা অবুঝমাড়ের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, এই অঞ্চল কফি চাষের উপযুক্ত। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল স্থানীয় গ্রামবাসীদের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করা।’

Advertisement

অবুঝমাড়ের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অধিকাংশটাই নারায়ণপুর জেলার অন্তর্গত। কফি চাষের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সেখানে। কফি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞ ও আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে কুতুল, কাচ্চাপাল, কোডলিয়ার, ইরকভাট্টি এবং তোকে-সহ অবুঝমাড়ের একাধিক দুর্গম গ্রাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলাশাসক নম্রতা জৈন। সেই প্রাথমিক সমীক্ষায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দিয়েছেন, এই এলাকার জলবায়ু এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য কফি চাষের জন্য উপযুক্ত। ছত্তিশগড়ের কৃষিমন্ত্রী রামবিচার নেতাম ‘বর্তমান’-কে বলেন, ‘মাওবাদী আতঙ্ক 
অতীত। বস্তারের অবুঝমাড়ের স্থানীয়রা এখন স্বাধীনভাবে বাঁচতে শিখছেন। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। অবুঝমাড়ের জনগণের উন্নয়নে সেখানে কফি চাষের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।’
প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কফি বোর্ডের সুপারিশে  ওড়িশার কোরাপুটে বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের। সেখানে তাঁরা কফি উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি, চারার পরিচর্যা, রোগ-পোকার দমন, ফলন বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেবেন। পরে তা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে অবুঝমাড়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কফি চাষের ভিত গড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি গাছ রোপণের প্রায় চার বছর পর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এই প্রকল্পে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং গ্রামবাসীদের সরাসরি যুক্ত করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। নিট ফল? যে অবুঝমাড় একসময় মাওবাদী আতঙ্কের ‘প্রতীক’ ছিল, সেই জনপদেই এবার কফির সুবাসে রচিত হতে চলেছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নতুন স্বপ্নের ইতিহাস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ