


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোথাও বন্ধ রাখতে হয়েছে দোকানপাট। কোথাও দিনভর বাড়ি থেকেই বের হতে পারেননি গৃহস্থরা। কোথাও আবার কারখানার গেটে ঝুলেছে তালা। কারণ একটাই। শহরজুড়ে দুর্বিষহ জল যন্ত্রণা। সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির জেরে হাওড়া শহরের অধিকাংশ ওয়ার্ডই জলের তলায় চলে গিয়েছে। অনেক জায়গা থেকে এদিন জল সরানোর বিষয়ে পুরসভার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ। যন্ত্রণার অবসান কবে, সদুত্তর নেই পুরসভার কাছেও।
বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেহাল দশা উত্তর হাওড়ায়। নবীন ঘোষ লেন, মহীনাথ পোড়েল লেন, ঘুসুড়ির লস্করপাড়া রোড, লালবিহারী বোস লেনের বহু বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। অরবিন্দ রোড, শ্রীরাম ঢ্যাং রোড, শিবগোপাল ব্যানার্জি লেন, কামিনী স্কুল লেন, জেলেপাড়া, কাশীপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা রীতিমতো জলের তলায় চলে গিয়েছে। পুরনো বাড়িতে বসবাস করছেন, এমন অনেকেই ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে আবার একতলার ঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে দোতলায় গিয়ে উঠেছেন। বাড়ি থেকে বেরলেই কোমর সমান জল। নিরুপায় হয়েই বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন কেউ কেউ।
অন্যদিকে, বামনগাছি, দাশনগর, কোনা ও সালকিয়ার বহু ছোট বড় কারখানা এদিন জমা জলের কারণে খুলতে পারেনি। বহু কারখানায় মেশিনপত্রের ভিতরে জল ঢুকে গিয়েছে। জল থই থই অবস্থা টি এল জয়সওয়াল ও বেলুড় হাসপাতালের সামনেও। এদিন সকালের দিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতালের গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢোকাই রীতিমতো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ক্ষুব্ধ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘পরিস্থিতি দিনের পর দিন খারাপ হয়ে চলেছে। জমা জল কোনওভাবেই নামছে না। রাস্তা, নর্দমা সব একাকার হয়ে গিয়েছে। পুরসভার কর্মীদের দেখা নেই’।
জলমগ্ন দশা শিবপুরের একাধিক এলাকাতেও। গত বছরের মতোই নরকের যন্ত্রণা ফিরে এসেছে ডুমুরজলা, ইছাপুর, শৈলেন মান্না সরণির বাসিন্দাদের কাছে। ফের গৃহবন্দি দশায় ফিরে গিয়েছেন এইচআইটি আবাসনে বসবাসকারী মানুষজন। বহু এলাকায় দিনভর বন্ধ রাখতে হয়েছে বাজার, প্রাথমিক স্কুল, পোস্ট অফিস। স্কুল-কলেজ কিংবা অফিসে যাওয়াও শিকেয় উঠেছে। একই অবস্থা কদমতলা এলাকায়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে সারা বছর এতগুলি পাম্প হাউস, নতুন ড্রেন তৈরি করার যৌক্তিকতা কী’? যদিও হাওড়া পুরসভার দাবি, শহরের বিভিন্ন অংশে এক নাগাড়ে পাম্প চালানো হচ্ছে। প্রতিটি পাম্প হাউস সচল রয়েছে। জমা জল নামানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু একদিকে ভারী বৃষ্টি, পাশাপাশি গঙ্গায় দিনের বড় অংশজুড়ে জোয়ার থাকায় জমা জল গঙ্গায় ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জল নামতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যাচ্ছে।