


রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: নানা ব্যবস্থায় আরামবাগ মহকুমায় দুর্ঘটনায় প্রাণঘাতির হার কমল বলে দাবি হুগলি গ্রামীণ পুলিশের। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ এ দুর্ঘটনা কমেছে। তবু গোঘাট থানা এলাকায় দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গোঘাটে দুর্ঘটনা কমলেও মৃত্যু হার বেড়েছে। দুর্ঘটনা আরও কমানোই লক্ষ্য। আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, পথ নিরাপত্তায় আরামবাগ মহকুমা এলাকায় বিগত বছরে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একাধিক জায়গায় ট্রাফিক সিগন্যাল, ট্রাফিক গার্ড তৈরি সহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারফলে তুলনামূলক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে আরামবাগ থানা এলাকায় ৫২টি পথ দুর্ঘটনার রিপোর্ট হয়। সেই বছর দুর্ঘটনায় মারা যান ২৮ জন। ২০২৫-এ দুর্ঘটনা হয়েছে ৩৮টি। প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। গোঘাট থানায় ২০২৪-এর দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৪টি। ২০২৫-এ কমে দু’টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু, ২০২৪ এর তুলনায় গত বছর মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। ২০২৪-এ মারা গিয়েছেন ১৭ জন। গত বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। খানাকুল থানায় ২০২৪ সালে দুর্ঘটনা হয়েছে ১৪টি। গত বছর দুর্ঘটনার সংখ্যা ১১টি। ২০২৪ সালে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ন’জনের। গত বছর প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। পুরশুড়া থানা এলাকায় ২০২৪ সালে ২১টি দুর্ঘটনা হয়। গত বছর হয়েছিল ১৪টি। মৃত্যুর হারও কমেছে সেখানে। ২০২৪ সালে প্রাণ হারান ১৫ জন। গত বছর মৃত্যু হয়েছে ন’জনের।
পুলিশের দাবি, বিগত বছরগুলিতে আরামবাগ চাঁপাডাঙা রাস্তায় একাধিক জায়গায় সিগন্যাল পোস্ট তৈরি হয়েছে। কামারপুকুরে গঠিত হয়েছে সাব ট্রাফিক গার্ড। এছাড়া বিভিন্ন থানা এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য টেম্পোরারি হোম গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি থানা এলাকায় নিয়মিত নাকা চেকিং চলছে। তাতে মদ্যপ অবস্থায় বাইক ও গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলিতে যান নিয়ন্ত্রণের নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আরামবাগের বিভিন্ন রাস্তায় হাম্প থাকলেও সেগুলিতে মার্কিং করা নেই। দিনে বা রাতে সেইসব হাম্প বোঝা যায় না। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া রাস্তার পাশে অবৈধ পার্কিং ও জবরদখলের জেরেও দুর্ঘটনার প্রবণতা রয়েছে। বিভিন্ন রাস্তার বাঁকে দৃশ্যমানতা কম রয়েছে। তাতেও দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। পুলিশ অবশ্য আরামবাগ শহরে অবৈধ পার্কিং রুখতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।