Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফাঁকা পড়ে বহু বেড, বিজেপি বিধায়কদের প্রশ্নের মুখে আইডি হাসপাতালের কর্তারা

কলকাতা অনেক হাসপাতালে বেড না পেয়ে মানুষের তুমুল ভোগান্তি হয়, এদিকে আইডি হাসপাতালে বহু বেড ফাঁকাই পড়ে থাকছে।

ফাঁকা পড়ে বহু বেড, বিজেপি বিধায়কদের  প্রশ্নের মুখে আইডি হাসপাতালের কর্তারা
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা অনেক হাসপাতালে বেড না পেয়ে মানুষের তুমুল ভোগান্তি হয়, এদিকে আইডি হাসপাতালে বহু বেড ফাঁকাই পড়ে থাকছে। কেন এমন হচ্ছে? সোমবার বিকেলে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সামনে এই কথা বলে উষ্মা প্রকাশ করেন বিজেপি বিধায়করা। প্রসঙ্গত, ৬০০ অনুমোদিত বেডের এই হাসপাতালে ৪৩০টি শয্যা চালু আছে। কিন্তু রোজ ভরতি থাকেন অনেক কমই। যদিও সংক্রামক রোগের এই হাসপাতালে যেকোনো জনস্বাস্থ্য বিপদের জন্য বেশকিছু ওয়ার্ড এবং অসংখ্য বেড প্রস্তুত রাখতে হয়। 

Advertisement

এদিন রোগী কল্যাণ সমিতির (আরকেএস) বৈঠক উপলক্ষ্যে হাসপাতালে আমন্ত্রিত সদস্য হিসাবে এসেছিলেন বিজেপি বিধায়ক ডাঃ ইন্দ্রনীল খান ও ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বেশ কতগুলি বিষয় নিয়ে তাঁরা কথা বলেন। শুধু আইডি হাসপাতালই নয়, এনআরএস এবং কলকাতা মেডিকেল কলেজেও এদিন রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক হয়েছে। আজ আর জি করের রোগী কল্যাণ বৈঠক। ২৮ মে বৈঠক পার্ক সার্কাসে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে। কলকাতা ছাড়াও জেলায় জেলায় বহু মেডিকেল কলেজ, সরকারি হাসপাতাল এবং গ্রামীণ হাসপাতাল বা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এদিন আরকেএসের বৈঠক হয়েছে। যাদের হয়নি, সবারই ২৮ মে-র মধ্যে বৈঠক করে, তাদের সিদ্ধান্তগুলি স্বাস্থ্যভবনে পাঠানোর কথা। মেডিকেল এবং এনআরএসে এদিনের আরকেএস বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত সদস্য তথা স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। ২৮ মে-র মধ্যে আরকেএস সম্পন্ন করা ছাড়া নতুন সরকার চিকিৎসক এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মীদের জন্য সাত ধরনের সচিত্র পরিচয়পত্র করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেজন্য দিন নির্দিষ্ট হয়েছিল ২৫ এবং ২৬ মে। সেইমতো শহর এবং গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এই পরিচয়পত্র করবার জন্য লাইন পড়ে যায়। 
এদিন মেডিকেলের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে হাসপাতাল এবং কলেজের অফিস কর্মীদের আসা-যাওয়ার সময় নিয়ে। কর্তৃপক্ষ চাইছে, এস্টাবলিশমেন্টের মতো অফিস শাখার কর্মীদের বেরোনোর সময়টা ৫টার আগে যাতে না-হয়। কারণ, তাদের পরের দিকটায় দরকার পড়ে। সেজন্য সকাল ১০টা ১৫-বিকেল ৫টা ১৫ যাওয়া-আসার সময়টি বাস্তবোচিত বলে করছেন এখানকার স্বাস্থ্যকর্তারা। যদিও তা স্বাস্থ্যভবনের অনুমোদনসাপেক্ষ। এছাড়া হাসপাতালের পূর্তদপ্তরের বিভিন্ন কাজে হাল হকিকত, ইমার্জেন্সি! ইমার্জেন্সি অপারেশন থিয়েটার এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়। এনআরএস মেডিকেল কলেজের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে রাতে দুজন সহকারী অধ্যাপক যাতে অতি অবশ্যই থাকেন, তা নিশ্চিত করা নিয়ে। এছাড়াও একাধিক বিষয়ে কথা হয়। 
আইডির রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে প্যাথোলজি, নেফ্রোলজিসহ বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসকের অভাবের প্রসঙ্গ ওঠে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কুকুর, বিড়ালের উৎপাত বন্ধ করবার দাবি জানান বিজেপি বিধায়করা। হাসপাতালে প্রচুর সরকারি জমি ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে জনস্বার্থবাহী নতুন কোনো পরিষেবা চালু করা যায় কি না, সেই পরিকল্পনা জানাতেও বলা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ