


সংবাদদাতা, মানকর: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের চমক, মহিলারা বিনামূল্যে সরকারি বাসে চড়তে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণার পরে আশার আলো দেখছেন মানকর, অভিরামপুর-সহ সংলগ্ন এলাকার মহিলাদের একাংশ। তবে আসানসোল বা দুর্গাপুর থেকে মানকর হয়ে গুসকরা রুটে সারা দিনে হাতে গোনা মাত্র দু’জোড়া সরকারি বাস চলে। তাই বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুলছেন এলাকার মহিলারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সময়ে দুর্গাপুর স্টেশন থেকে গুসকরা পর্যন্ত সরকারি বাস চলত। সারাদিনে চারবার যাতায়াত করত ওই বাস। পাশাপাশি দূরপাল্লার রুটেও পরিষেবা চালু ছিল। কিন্তু এরপর যত দিন গিয়েছে পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। অনিয়মিত হয়ে পড়ে বাসগুলি। বিগত প্রায় দশ বছর ধরে সরকারি বাসের পরিষেবা নিয়ে এলাকার মানুষ বিরক্ত। এই রুটের মহিলা যাত্রীদের আশা, নতুন সরকার ভাল কিছু করবে। বাসের সংখ্যা ও রুটের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বিজেপি জমানায়। তাঁদের দাবি, নিত্যনৈমিত্তিক কাজে প্রায়শই বাসে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় দূরপাল্লার বাসেও যাতায়াত করতে হয়। সরকারি বাসে নিখরচায় যাতায়াত করতে পারলে সুবিধার পাশাপাশি কিছুটা হলেও অর্থের সাশ্রয় হবে।
অভিরামপুরের বাসিন্দা পিঙ্কি ঘোষ বলেন, আমাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই বাস। এই এলাকা থেকে মানকর, পারাজ বা গুসকরা স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হলেও বাসে চেপে যেতে হয়। গুসকরা-মানকর বাস রুটের উপর গলসি-১ এবং আউশগ্রাম ১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ জঙ্গলমহল এলাকার বাসিন্দারা নির্ভরশীল। কিন্তু এই রাস্তায় হাতে গোনা সরকারি বাস চলে। সরকারি বাস বেশি থাকলে আমরা সুবিধা পাব।
গুসকরার বাসিন্দা মালবিকা সরকারের কথায়, মাঝেমধ্যেই দুর্গাপুর ডাক্তার দেখাতে যেতে হয়। বাসেই যাতায়াত করি। সরকারি বাসে ভাড়া না লাগলে খুব ভাল হবে। তবে এই রুটে বাসের সংখ্যা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
পানাগড় বাসস্ট্যান্ডের এক পরিবহণ কর্মী বলেন, বিনামূল্যে মহিলাদের সরকারি বাসে চড়ার ঘোষণা হওয়ার পর বেশ কয়েক জন মহিলা বাসস্ট্যান্ডে এসে সরকারি বাস কখন, কোন রুটে চলাচল করে সেকথা জিজ্ঞাসা করছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, এই প্রকল্প শুরুর আগেই মহিলারা ব্যাপক উৎসাহিত। আগামীতে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে। আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
সরকারি বাস।-নিজস্ব চিত্র