Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬

জ্বলছে মণিপুর, বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে রকেট হামলায় ২ শিশুর মৃত্যু,

মাঝরাতে বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে আচমকাই রকেট হামলা। বেঘোরে মৃত্যু হল তাঁর পাঁচ মাসের কন্যা ও পাঁচ বছরের ছেলের

জ্বলছে মণিপুর, বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে রকেট হামলায় ২ শিশুর মৃত্যু,
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল:  মাঝরাতে বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে আচমকাই রকেট হামলা। বেঘোরে মৃত্যু হল তাঁর পাঁচ মাসের কন্যা ও পাঁচ বছরের ছেলের। গুরুতর জখম দুই শিশুর মা। এই ঘটনায় নতুন করে হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বিজেপি শাসিত মণিপুরে। স্থানীয় ও সরকারি সূত্রে দাবি, কুকি জঙ্গিরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এনপিপি বিধায়ক থোংগম শান্তি সিংও ‘কুকি মাদক-জঙ্গিদের’ উপর হামলার দায় চাপিয়েছেন।  সোমবার রাতের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোররাত থেকে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ মেইতেই জনতা স্থানীয় সিআরপিএফ ক্যাম্পে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। একের পর এক গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। পালটা সিআরপিএফ গুলি চালালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবাল, কাচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলায় আগামী তিনদিনের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী ইয়ামনাম খেমচাঁদ সিং সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তদন্তভার এনআইএ-কে দেওয়া হবে। যদিও তাতে চিঁড়ে ভিজছে না। মণিপুর নতুন করে অশান্ত হয়ে ওঠায় সরব বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগে অবিলম্বে দৃঢ় পদক্ষেপ করুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিছক একটি রাজ্য নয়, মণিপুর হল দায়বদ্ধতা। শুধুমাত্র বিবৃতি দেওয়া বা লোক দেখানো সফর পর্যাপ্ত নয়।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাত ১টা নাগাদ বিষ্ণুপুর জেলার মৈরাং-এর ত্রংলাওবি আওয়াং লেইকাই গ্রামে বিএসএফ কর্মী ওইনাম মালেমনগনবারের বাড়িতে রকেট হামলা চালানো হয়। ঘটনায় জখম বিএসএফ কর্মীর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখানে বারবার তাঁর আর্তি , ‘আমার সন্তানদের এনে দাও’। তখনও তিনি জানেন না, তাঁর দুই শিশুসন্তান আর জীবিত নেই। গুয়াহাটিতে নার্স হিসাবে কর্মরত ছিলেন তিনি। সন্তানদের জন্য চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরেছিল। এই ঘটনার মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই মৈরাং-এ স্থানীয় মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষুব্ধরা একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে দুটি তেলের ট্যাঙ্কার ও একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। মৈরাং পুলিশ স্টেশনের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায়, একটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়িও ভাঙচুর করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শূন্যে গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।  স্মোক বোমারও ব্যবহার করে। এতে অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ত্রংলাওবি গ্রামটি মেইতেই প্রভাবিত বিষ্ণুপুর ও চুড়াচাঁদপুর জেলার কুকি প্রভাবিত পাহাড়ি এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরিচিত। গ্রামবাসীদের দাবি, আগেও পাহাড়ের উঁচু জায়গা থেকে এই ধরনের হামলা করা হয়েছে। (উপরে) রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় মেইতেই সম্প্রদায়ের মহিলারা। (নীচে) জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ট্রাক। ছবি: পিটিআই

সম্পর্কিত সংবাদ