শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: একদিকে প্রাচীন ঘাটের ঐতিহ্য, অন্যদিকে শ্মশানের গাম্ভীর্য। সঙ্গে গঙ্গার বুকে ভাসমান প্রদীপ, নৌকা আর চোখ ধাঁধানো আরতির আবহ। বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটের সেই ঐতিহ্যকে বারাসতের কালীপুজোয় তুলে ধরতে চলেছে পাইওনিয়ার অ্যাথলেটিক ক্লাব। ২০২৬ সালে ৫৪ তম বর্ষে পা রেখে দর্শনার্থীদের জন্য এমনই এক অভিনব ভাবনা নিয়ে হাজির হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তাদের এবারের থিম ‘মণিকর্ণিকা ঘাট’। যার মূল আকর্ষণ হতে চলেছে লাইভ আরতি এবং প্রায় ১০ হাজার প্রদীপের আলোয় সাজানো জলভাগ। বারাসতের কালীপুজো মানে থিমের বৈচিত্র্য, মণ্ডপসজ্জার অভিনবত্ব আর দর্শনার্থীদের নজর কাড়ার লড়াই। সেই প্রতিযোগিতায় প্রতি বছরই নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করে পাইওনিয়ার ক্লাব। এবারও সেই ধারা অ্যাবহত।
কেবল মণ্ডপ তৈরি করেই থেমে থাকতে চান না উদ্যোক্তারা। বারাণসীর ঘাটের পরিবেশ, প্রাচীন স্থাপত্য, ধর্মীয় আচার এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই তাঁদের মূল ভাবনা। ক্লাবের সামনের পুকুরকে গঙ্গার আদলে সাজিয়ে তোলা হবে। সেই জলে ভাসবে প্রায় ১০ হাজার প্রদীপ। থাকবে নৌকাও। প্রদীপের আলো আর জলভাগের আবহ ও ঘাটের সাজসজ্জা মিলিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে বারাণসীর এক বিশেষ অনুভূতি তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে মণিকর্ণিকা ঘাটের ঐতিহাসিক পরিচয়। কাশীর অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ শ্মশানঘাট হিসাবে মণিকর্ণিকা ঘাটের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাসে এই ঘাটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জীবন, মৃত্যু এবং মোক্ষলাভের ধারণা। সেই ঐতিহ্যকে মাথায় রেখেই পুজোর থিমে রাখা হচ্ছে এক শ্মশানের প্রতিরূপ। সেখানে থাকবেন সাধুসন্তরা। সেই সঙ্গে পুজোর অন্যতম আকর্ষণ লাইভ আরতি। বারাণসীর ঘাটে সন্ধ্যা আরতি, প্রদীপের আলো এবং মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে যে আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়, সেই আবহকেই তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। দর্শনার্থীরা যাতে শুধু প্রতিমা দর্শনেই সীমাবদ্ধ না থাকেন, বরং ঘাটকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার স্বাদ পান, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা।
ক্লাবের সম্পাদক শম্ভুনাথ দাস বলেন, আমাদের পুজো এবার ৫৪ তম বর্ষে পা দিচ্ছে। প্রতি বছরই আমরা এমন থিম করি, যা মানুষের মনে দাগ কাটবে। এবার মণিকর্ণিকা ঘাটের ঐতিহ্যকে সামনে রেখে কাজ করার পরিকল্পনা করেছি। আমাদের লক্ষ্য, শুধু বড়ো আয়োজন নয়, মানুষকে একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া। সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে আরতি, চলবে গভীর রাত পর্যন্ত। পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা অজয় ঘোষের কথায়, থিমের মধ্যে দিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছি। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জলভাগের আশপাশে নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।



