Bartaman Logo
২১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৫ বছরে ২১ শতাংশ ম্যানগ্রোভ কমেছে বিশ্বে, ভিলেন চিংড়ির ভেড়িই হয়ে উঠতে পারে ত্রাতা

বিশ্বব্যাপী ২১% ম্যানগ্রোভ কমেছে, চিংড়ির ভেড়ি দায়ী। বাঙালি বিজ্ঞানীরা নতুন সমীক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

৫ বছরে ২১ শতাংশ ম্যানগ্রোভ কমেছে বিশ্বে, ভিলেন চিংড়ির ভেড়িই হয়ে উঠতে পারে ত্রাতা
  • ২১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: মহাসাগরগুলির সামগ্রিক পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য পাঁচবছর অন্তর ওয়ার্ল্ড ওশান অ্যাসেসমেন্ট করিয়ে থাকে রাষ্ট্রপুঞ্জ। এবছর সেই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আগের চেয়ে সারা পৃথিবীতে ম্যানগ্রোভ অরণ্য কমেছে ২১ শতাংশ। মজার বিষয় হল, নতুন ১০টি দেশে ম্যানগ্রোভ অরণ্য আবিষ্কৃত হয়েছে। আগে ১১৮টি দেশে ম্যানগ্রোভের হদিশ ছিল। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১২৮টি। তবে, মোট ম্যানগ্রোভ কমেছে। এর জন্য ভেড়ি করে চিংড়ি চাষকেই প্রধান ভিলেন মনে করছেন সমীক্ষকরা।

Advertisement

এই বিশ্বব্যাপী সমীক্ষার জন্য দল গঠন করা হলেও তাতে গুরুত্ব পেয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানীরা। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিটি অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইসার), কলকাতার অধ্যাপক পুণ্যশ্লোক ভাদুড়ি এই গবেষণাপত্রের ‘কো-অর্ডিনেটিং অথর’ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। একই সঙ্গে এই প্রজেক্টের রাষ্ট্রপুঞ্জ মনোনীত মুখপাত্রও তিনি। এছাড়াও স্বাধীন বিজ্ঞানী হিসাবে রয়েছেন অন্বেষা ঘোষ। এছাড়া বারাসতের পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৃষ্ণা রায়ও রয়েছেন দলে। পুণ্যশ্লোকবাবু বলেন, সমীক্ষার রিপোর্ট বেশ উদ্বেগজনক। নতুন ১০টি দেশে ম্যানগ্রোভ পাওয়া গিয়েছে ঠিকই। তবে, তার কারণ হল উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সন্ধান চালানো হয়েছিল। সেগুলিতে আগে থেকেই ম্যানগ্রোভ ছিল। নতুন করে হয়নি। বরং যেখানে রয়েছে, সেখানে ভেড়ির জন্য কমে গিয়েছে। পাঁচবছরে ২১ শতাংশ ম্যানগ্রোভ কমে যাওয়া মুখের কথা নয়। 
আশার আলোও অবশ্য দেখাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন কারণে ভেড়ি তৈরি করে চিংড়ি চাষ শুরু হলেও পরবর্তীতে তা বিভিন্ন কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। উপকূলবর্তী অধিকাংশ মহকুমাতেই তা রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে পরিত্যক্ত ভেড়ির আয়তন সব মিলিয়ে মুম্বইয়ের ধারাভি বস্তির সমতুল্য। সেগুলিকে ম্যানগ্রোভ বসানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। কারণ গবেষণা করে তাঁরা দেখেছেন, ভেড়ির পাশে ম্যানগ্রোভ থাকলে তাতে উলটে উপকারই হয়। ওষুধ, খাবার কম প্রয়োজন হয়। কারণ ম্যানগ্রোভের পাতা বিভিন্ন রোগ ঠেকাতে পারে। আবার পচা পাতা চিংড়ির খাদ্যও হয়। এভাবে চিংড়ি চাষ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাপকাঠি মেনে রপ্তানিও সম্ভব। আবার কম খরচে এতে উৎপাদনও বাড়ে। পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এই প্রস্তাব দিয়ে চিঠিও লিখেছেন তিনি। এতে জীবিকাও হবে আবার ম্যানগ্রোভও বাড়বে বলে তাঁর আশা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ