


নয়াদিল্লি, ২০ মার্চ: ভারতে স্মার্টফোন কিনলেই কি এবার বাধ্যতামূলকভাবে থাকবে আধার অ্যাপ? কেন্দ্রের এমন এক প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জানুয়ারি মাসে ভারত সরকার স্মার্টফোন নির্মাতাদের প্রস্তাব দিয়েছে দেশে বিক্রি হওয়া সব নতুন ফোনে আগেই ইনস্টল করে দিতে হবে আধার অ্যাপ। আর এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ইউআইডিএআই।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, 'দেশের ১৩৪ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য আধার এখন দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যাংক থেকে মোবাইল সংযোগ, এমনকি বিমানবন্দরে প্রবেশ সব ক্ষেত্রেই আধার বাধ্যতামূলক। তাই নতুন ফোনে অ্যাপটি আগে থেকেই থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা ব্যবহার করা আরও সহজ হবে'। এ বছরের জানুয়ারিতেই চালু হয়েছে নতুন আধার অ্যাপ, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের আধারের তথ্য আপডেট করতে পারবেন, পরিবারের সদস্যদের প্রোফাইল ম্যানেজ করতে পারবেন, এমনকি নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য লক করেও রাখতে পারবেন। কিন্তু এখানেই শুরু আপত্তি। স্মার্টফোন নির্মাতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ধরনের বাধ্যতামূলক প্রি ইনস্টলেশন ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাদের যুক্তি, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই এমন নিয়ম নেই, শুধুমাত্র রাশিয়াতেই কিছু সরকারি অ্যাপ প্রিলোড করা বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে, আধারকে ঘিরে অতীতে একাধিক তথ্য ফাঁসের ঘটনাও উঠে এসেছে। আর সেই ঘটনাই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই কেন্দ্র সরকার 'সঞ্চার সাথী' অ্যাপটি সব স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে প্রি ইনস্টল করার নির্দেশ দিয়েছিল। শুধু নতুন ফোন নয়, পুরনো ফোনেও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপটি ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সৃষ্টি হয় নানান বিতর্কের। ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়াই অ্যাপ ইনস্টল করার সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। পরে শেষ পর্যন্ত সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। আবার এখন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আধার আ্যাপ। তবে এই ক্ষেত্রে এটি সরকারের নির্দেশ নয় বরং স্মার্টফোন নির্মাতাদের কাছে একটি ‘অনুরোধ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আধার অ্যাপের ক্ষেত্রে সরকার অনুরোধের সীমা অতিক্রম করে কি না, এবং স্মার্টফোন নির্মাতারা শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাবে সায় দেয় কি না সেটিই লক্ষনীয়।