Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত শুরু কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব মানস ভুঁইয়া

উত্তরের তিন জেলায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু। একইসঙ্গে বাঁধের ভাঙন মোকাবিলার কাজে হাত দিয়েছে সেচদপ্তর

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত শুরু কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব মানস ভুঁইয়া
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরের তিন জেলায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু। একইসঙ্গে বাঁধের ভাঙন মোকাবিলার কাজে হাত দিয়েছে সেচদপ্তর। জোরকদমে চলছে ওই কাজ। চলতি মাসের মধ্যে বেশিরভাগ কাজ প্রায় শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করে বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনা ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিঁধলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। বৃহস্পতিবার টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে এতবড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়ে গেল, অথচ কেন্দ্র এক টাকাও দিল না। মহারাষ্ট্র কিংবা কর্ণাটক কেন্দ্রের অর্থ বরাদ্দ পায়। কিন্তু বাংলায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে দিল্লি হাতগুটিয়ে থাকে। এনিয়ে বাংলার মানুষের সরব হওয়া উচিত। 

Advertisement

নদীর জলস্ফীতির জেরে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার মিলিয়ে মোট ১৮৫টি জায়গায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি রাজ্যের সেচমন্ত্রীর। বাঁধে বিপজ্জনক ভাঙন দেখা দেয় ১২টি জায়গায়। সর্বত্রই জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এদিন মানসবাবু বলেন, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে জোরকদমে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ তৈরি ও মেরামতের কাজ চলছে। ১৮৫টি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের মধ্যে ৮২টির কাজ ইতিমধ্যেই আমরা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। অন্যদিকে, ১২টি জায়গায় নদীবাঁধে যে বিপজ্জনক ভাঙন দেওয়া দিয়েছিল, তারও কাজ চলছে। সাতটি জায়গায় বাঁধের ভাঙন মোকাবিলার কাজ প্রায় শেষ। 
ময়নাগুড়ির আমগুড়ি পঞ্চায়েত এলাকায় জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেদগাড়া খাটোরবাড়ি, তারাবাড়ি ও দাসপাড়ায়। তিনটি জায়গাতেই বাঁধ তৈরির কাজ চলছে। বাঁধ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আগেই খাটোরবাড়িতে ডাইভারশন রোড তৈরি করে দিয়েছিল সেচদপ্তর। এখন বাঁধ তৈরির কাজ চলছে। সেচদপ্তর সূত্রে খবর, জলঢাকা নদীর ডানপাড়ে খাটোরবাড়িতে ৪৫ মিটার, তারাবাড়িতে ৭০ মিটার ও দাসপাড়ায় ৮০ মিটার বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। খাটোরবাড়িতে বাঁধ তৈরির জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৮২ লক্ষ টাকা। তারাবাড়িতে ৮২ লক্ষ টাকা এবং দাসপাড়ায় বাঁধ নির্মাণে খরচ ধরা রয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা। 
সেচদপ্তরের জলপাইগুড়ির এক আধিকারিক বলেন, জলের তোড়ে জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে ১২০টি জায়গায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে প্রশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট পাই আমরা। এরমধ্যে অনেক বাঁধ সেচদপ্তরের নয়। জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ কিংবা গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতি তৈরি করেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ওসব বাঁধ মেরামতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমাদের। বর্তমানে জেলায় ৭০টি জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতির কাজ চলছে। এরমধ্যে অনেক কাজ শেষের মুখে। 
জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, দুর্যোগ কবলিত এলাকায় জোরকদমে পুনর্গঠনের কাজ চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। জল নামতেই ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতির কাজে দুর্গতদের সাহায্য করছেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্মী, আধিকারিকরা। আর্থ মুভার দিয়ে পলি-বালি সরানোর কাজও চলছে। ধীরে ধীরে দুর্গতরা ঘরে ফিরছেন। তবে যাঁরা এখনও অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য দু’বেলা রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। পানীয় জল, ওষুধপত্র সবকিছুরই ব্যবস্থা করেছি আমরা। জেলাশাসকের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, বাঁধের কাজ চলছে। ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, নাগরাকাটায় বামনডাঙা, টন্ডুতে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেতুর কাজও চলছে।  ময়নাগুড়ির খাটোরবাড়ি এলাকায় বাঁধ তৈরির কাজ করছে সেচদপ্তর। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ