


মৃত্যুই চিরন্তন। বাকি সবই অনিশ্চিত। জীবনের ময়দান হোক বা ফুটবল মাঠ— টিকে থাকতে গেলে লড়াই প্রয়োজন। হাল ছাড়লে চলবে না। ক্লাব প্রশাসনের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। ভারতীয় ফুটবলে টাকা ঢালার লোকের বড্ড অভাব। অথচ ক্লাব চালাতে প্রচুর অর্থ চাই। আর তা বুঝে স্পনসর আনতে উদ্যোগী হয়েছিলেন ইস্ট বেঙ্গলের প্রাণপুরুষ পল্টু দাস। পরবর্তীতে ওঁর দূরদৃষ্টির প্রশংসা করেছেন সবাই। আজ, এই আনন্দের দিনে পল্টুদা-জীবনদার কথা বড্ড মনে পড়ছে। ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে ভারতসেরার ট্রফি জ্বলজ্বল করছে। পুরুষ ও মহিলা দল এএফসিতে অংশ নেবে। গর্বের দিনে পল্টুদা নিশ্চয়ই পরলোক থেকে আশীর্বাদ করছেন। সাফল্য একদিনে আসে না। এটা দীর্ঘ পদ্ধতি। ক্লাব চালানোর ক্ষেত্রে ইমামি গ্রুপ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে। এছাড়াও ইস্ট বেঙ্গলে পুরো সেট-আপ চালাতে নিরন্তর পরিশ্রম করে একটা টিম। এই জয় তাদের সকলের।
প্রথম জাতীয় লিগ জয়ের কথা মনে পড়ছে। তিরুবনন্তপুরমে শেষ ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের প্রতিপক্ষ এসবিটি। জিতলে খেতাব নিশ্চিত। অন্যথায় ট্রফি জিতবে মোহন বাগান। তার আগেই মাথায় বাজ পড়ার অবস্থা। পল্টুদার প্রয়াণে মাথার উপর থেকে বটগাছ গেল সরে। সেদিন ক্লাব তাঁবুতে পল্টুদার মরদেহ স্পর্শ করে ট্রফি জয়ের শপথ নিয়েছিল ফাল্গুনী দত্ত, বিজেন সিংরা। কোচ সেবার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। সেদিন শোকের মধ্যেও মনার চোখে দেখেছিলাম আগুন। যাই হোক, শেষ লড়াইয়ের আগে টেনশনে জবুথবু সবাই। প্রবল বৃষ্টিতে মাঠ খাটাল। তার আগের সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়েছিল। পেরেক, কাঠের টুকরো ছড়িয়ে থাকতে দেখে গোটা দল ক্ষুব্ধ। এই অবস্থাতেও ফুটবলাররা উজাড় করে দিয়েছিল। সেদিন ওমোলাজার জোড়া গোলে জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট বেঙ্গল। মাঠেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেছিল স্বপনদা। আমার অন্যতম সহযোদ্ধা। এক আকাশ ভরসা। তখন আমার চোখও চিকচিকে। আসলে কামব্যাকের অপর নাম ইস্ট বেঙ্গল। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ সমর্থকের কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসা মাথায় নিয়ে যেন এভাবেই এগিয়ে যেতে পারে আমাদের সবার ইস্ট বেঙ্গল।
(লেখক ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষকর্তা)