


বিষ্ণুপুর আমার দেশ। পুরোদস্তুর ঘটি। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গল আমার প্রাণের আরাম। এই ক্লাবের প্রেমে পড়ি সুরজিৎদার (সেনগুপ্ত) অসাধারণ ড্রিবল দেখে। মনে পড়ে, ওঁর সেন্টারে সাবির আলির হেডে গোলের কথা। সেই সময় ইস্ট বেঙ্গল জার্সি খুব একটা পাওয়া যেত না। কিন্তু বেহালা ম্যানটনের একটা দোকান থেকে ছেলেবেলায় জার্সি কিনেছিলাম। পিঠে ‘১০’ লিখে পরে খেলতাম। তখন থেকেই ইস্ট বেঙ্গল অনুরাগী। ফোর্ট উইলিয়াম স্টপে বাস থেকে নেমে বন্ধুদের সঙ্গে র্যামপার্টে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতাম। তখন টিকিট কেনার পয়সা ছিল না। পরে অবশ্য গ্যালারিতে বসেও খেলা দেখেছি।
আর তাই ইস্ট বেঙ্গলের ভারতসেরা হওয়ার আনন্দটা হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসছে। কত খুশি হয়েছি তা বোঝানোর মতো ভাষা নেই। ২০০৪ সালে জাতীয় লিগ যখন জিতেছিলাম, তখন ইস্ট বেঙ্গলকে সবাই সমীহ করত। কর্পোরেট ফুটবল আসার পর ভাগ্যও আমাদের সঙ্গী ছিল না। সেই দুঃখের সময় পেরিয়ে এলাম অবশেষে। এত লোক এখনও ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবকে ভালোবাসে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, সেটাই আনন্দের। এখনও প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের খবরই খুঁজি নানা মাধ্যমে। রেকর্ডিংয়ের দিন ম্যাচ পড়ে গেলে সেটা পিছিয়ে দিই। এবারই ডার্বির দিন একটা প্রোগ্রাম ক্যানসেল করেছি। মন কিছুদিন ধরেই বলছিল, আমরাই চ্যাম্পিয়ন হব। স্বপ্নসফলের রাতের পর কানে বাজছে আমার গাওয়া গানের লাইনগুলো, আমাদের অনুভূতি একটাই রংয়ে/ লাল-হলুদে বাঁচি প্রতিক্ষণ/লড়াই আমাদের শিরায় শিরায়/এই মশাল জ্বলছে জ্বলবে অবিরাম।
লেখক সংগীতশিল্পী ও
ইস্ট বেঙ্গল অনুরাগী।