Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চন্দ্রকোণায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, সিআরপিএফ ও পুলিশের হাতে উদ্ধার

‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল চন্দ্রকোণা থানার জাড়া গ্রাম। এক অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে পড়তেই উন্মত্ত জনতার রোষ আছড়ে পড়ে।

চন্দ্রকোণায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, সিআরপিএফ ও পুলিশের হাতে উদ্ধার
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল চন্দ্রকোণা থানার জাড়া গ্রাম। এক অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে পড়তেই উন্মত্ত জনতার রোষ আছড়ে পড়ে। চন্দ্রকোণা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছালেও জনতার হাত থেকে ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। অবশেষে সিআরপিএফ ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় আক্রান্তকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। যে ব্যক্তিকে ঘিরে গুজব ছড়িয়েছিল, তিনি ছেলেধরা নন।

Advertisement

ওইদিন দুপুরে জাড়া গ্রামে এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখে গ্রামবাসীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। সেই সন্দেহ থেকেই এলাকায় রটে যায়, ওই ব্যক্তি আসলে ছেলেধরা। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে গণপিটুনি দিতে শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতা আক্রান্তকে উদ্ধারে বাধা দেয়। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায় তড়িঘড়ি সিআরপিএফ জওয়ানদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। 
কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাঠি উঁচিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করলে পুলিশ আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বাড়ি হুগলি জেলার গোঘাটের রামানন্দপুরের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকায় কেন ঘুরছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা নিয়ে ফের বড়ো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের তরফে বারবার মাইকিং করে মানুষকে গুজবে কান না দিতে বলা হচ্ছে। কোনও ব্যক্তিকে সন্দেহজনক মনে হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সরাসরি পুলিশকে জানানোর আবেদনও জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি পুলিশ ও প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কারণ, মঙ্গলবারের ঘটনায় যথাসময়ে পুলিশ পৌঁছাতে না পারলে বড়ো অঘটন ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ যদি শান্তভাবে বিশ্লেষণ করতেন, তাহলে এরকম ঘটনা ঘটত না। তাঁরাই এলাকার মানুষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন।

সম্পর্কিত সংবাদ