Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিপুর হাসপাতালের বাথরুমে আধ ঘণ্টা পড়ে থেকে যুবকের মৃত্যু, সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি কর্মরত কেউই

চূড়ান্ত অমানবিকতার ছবি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।

শান্তিপুর হাসপাতালের বাথরুমে আধ ঘণ্টা পড়ে থেকে যুবকের মৃত্যু, সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি কর্মরত কেউই
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা রানাঘাট: চূড়ান্ত অমানবিকতার ছবি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। অচেতন হয়ে প্রায় আধ ঘণ্টা হাসপাতালের বাথরুমে পড়ে রইল এক যুবক। পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি করলেও হাসপাতালের কোনো কর্মী সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন ওই যুবক। এরপর মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় শান্তিপুর থানার পুলিশ। মৃত যুবকের নাম রাজকুমার (৩৬)। তাঁর বাড়ি শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বঙ্গবলি পাড়ায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান বিজেপি বিধায়ক ও রানাঘাটের মহকুমা শাসক। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজকুমারবাবু শুক্রবার সকালে সাইকেল চালিয়ে ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় তিনি সেখানে না গিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাঝপথে সাইকেল থেকে তিনি পড়ে যান। এলাকাবাসীর পরিচিত হওয়ায় তাঁরা রাজকুমারবাবুর বাড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে তাঁর মা এসে এলাকাবাসীর সাহায্যে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজকুমারবাবুকে দেখে অবজারভেশনে রাখেন। 
কিছুক্ষণ পর রাজকুমারবাবু বাথরুমে যাবেন বলে তাঁর মাকে জানান। কিন্তু, বিছানা থেকে তাঁর ওঠারমতো ক্ষমতা ছিল না। তাঁর কাছে থাকা মা ও দিদি বিষয়টি কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের জানান। কিন্তু, তাঁরা বলেন তাঁদের কিছু করার নেই। বেড থেকে বাথরুমের দূরত্ব অনেকটাই। কোনো রকমে মা ও দিদি তাঁকে অনেক কষ্ট করে বাথরুমে নিয়ে যান। বাথরুমের ভিতরে ঢুকেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান রাজকুমারবাবু। অনেক চেষ্টার পর তাঁকে তুলতে না পারায় তাঁর মা এবং দিদি হাসপাতালের কর্মীদের সাহায্য করার জন্য বলেন। কিন্তু, তাঁদের ডাকে কেউ এগিয়ে আসেননি। ওই অবস্থায় বাথরুমে প্রায় আধ ঘণ্টা পড়েছিলেন রাজকুমারবাবু। এরপর খবর পেয়ে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এসে বাথরুম থেকে রাজকুমারবাবুকে কোনোরকমে বেডে নিয়ে যান। তারপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজকুমারবাবুর পরিবারের লোকজন। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁরা শান্তিপুর হাসপাতালের সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। কর্তব্যে গাফিলতির ফলেই তাঁর ছেলেকে এভাকে অকালে চলে যেতে হল বলে দাবি রাজকুমারবাবুর বাবা নবোদয়কুমার ঘোষের। মৃতের ভাগনি প্রিয়াঙ্কা রায় জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মামার বুকে ব্যথা হচ্ছিল। টনসিল ফুলে গিয়েছিল। হাসপাতালে আনার পর মামাকে অবজারভেশনে রাখা হয়। শৌচকর্ম করানোর জন্য বেডপ্যান চাওয়া হলেও দেওয়া হয়নি। ডাক্তারবাবুর সহযোগীরা জানান, এখানে বেডপ্যানের ব্যবস্থা নেই। শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য হুইলচেয়ার  চাওয়া হলেও দেয়নি। আমাদের বলা হয়, নিজেদের দায়িত্বে রোগীকে বাথরুমে নিয়ে যেতে।
খবর পেয়ে হাসপাতালে যান বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাস। তিনি জানান, গ্রুপ ডি কর্মী সহ অন্যান্যদের অনেক গাফিলতি রয়েছে। বিধায়ক বলেন, হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন আগামী দিনে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। খবর পেয়ে রানাঘাট মহকুমা শাসক সুবুর খান শান্তিপুর হাসপাতালে যান। হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না খোঁজ নেন। সিএমওএইচ থেকে গ্রুপ ডি কর্মীদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে কি না তাও খোঁজ নেন। যদিও এবিষয়ে শান্তিপুর হাসপাতালের সুপার তারক বর্মণ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সম্পর্কিত সংবাদ