নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন। গত কালীপুজোর সময়ও স্ত্রীকে ওই স্বামী এমনভাবে আঘাত করেছিলেন যে, তাঁর মাথায় তিরিশটি সেলাই পড়েছিল। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু তিন মাস জেল খেটে এসে স্ত্রীর গলা কেটেদিলেন।
স্বামী উজ্জ্বল মণ্ডল দিনমজুরের কাজ করেন। আর স্ত্রী জ্যোৎস্না মণ্ডল পরিচারিকার কাজ করেন। কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভূতবাগান এলাকার এই ঘটনা। ঘরের টালি খুলে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের স্ত্রীর গলার নলি কেটে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম জ্যোৎস্না মণ্ডল(৪৫)। অভিযুক্ত স্বামীর নাম উজ্জ্বল মণ্ডল। অভিযুক্ত উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করেছে বীজপুর থানা। অভিযুক্তকে এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। সাতদিনের পুলিস হেফাজতের আবেদন জানানো হলে বিচারক মঞ্জুর করেন।
বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উজ্জ্বল মণ্ডল ও তারঁ স্ত্রী জ্যোৎস্না মণ্ডলের মধ্যে অশান্তি চলছিল। এর আগেও উজ্জ্বল স্ত্রীকে মারধর করেছেন। সোমবার রাতে ঘরের টালি খুলে ভিতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার নলি কেটে স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে যান। এদিকে, জ্যোৎস্নাদেবীর আর্তচিৎকারে আত্মীয়, প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁরা পুলিসকে খবর দেয়। বীজপুর থানার পুলিস এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য।
মৃত জ্যোৎস্নাদেবীর মা মেয়ের ওই গলাকাটা মৃতদেহ দেখে রীতিমতো হইচই জুড়ে দেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার মেয়ের স্বামী ওকে খুন করেছে। ওঁর কঠোর শাস্তি চাই। আর নিহত জ্যোৎস্নাদেবীর বিবাহিত ছোট মেয়ে কোয়েল মণ্ডল বলেন, বাবা তো মাকে সন্দেহ করতেন। তার জেরেই এই ঘটনা। বাবাকে ফাঁসি দেওয়া হোক।