Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হেঁশেল থেকে ভোটযুদ্ধের ময়দান, চর্চায় প্রান্তিক ঘর থেকে আসা মমতার ৫ কন্যা

ব্যাগে সেদিন টাকা ছিল না। প্রায় দেড় ঘণ্টা হেঁটে ফিরেছিলেন বাড়ি। জীবনসংগ্রামের এটি একটি সামান্য উদাহরণ মাত্র। হুগলির আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের জীবনের গল্প চমকে দেয় সকলকে।

হেঁশেল থেকে ভোটযুদ্ধের ময়দান, চর্চায় প্রান্তিক ঘর থেকে আসা মমতার ৫ কন্যা
  • ১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ব্যাগে সেদিন টাকা ছিল না। প্রায় দেড় ঘণ্টা হেঁটে ফিরেছিলেন বাড়ি। জীবনসংগ্রামের এটি একটি সামান্য উদাহরণ মাত্র। হুগলির আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের জীবনের গল্প চমকে দেয় সকলকে। তাঁদের অ্যাসবেস্টসের ছাউনির বাড়ি। ছেলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় বলে গয়না বন্ধক রেখে টোটো কিনে দিয়েছিলেন। মিতাদেবী এবারের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা ব্রিগেডের অন্যতম সৈনিক।

Advertisement

ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় আছেন ৫২ জন মহিলা। এমন মহিলাদের মমতা বাছাই করেছেন যাঁরা সংসার এবং সমাজসেবার কাজ সামলে সর্বাগ্রে আছেন রাজনীতিতে। তাঁদের মধ্যে সুপ্ত আলোর পথযাত্রী হওয়ার সম্ভাবনা। এই পাঁচজনেরই একজন মিতা বাগ। তিনি পঞ্চায়েত সদস্য, উপপ্রধান এবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও রাজনীতিতে কিছু পাওয়ার আশায় কোনোদিন ছোটেননি। এখনও ছুটতে চান না। তাই মাথা উঁচু করে বলেন, ‘এই বেশ ভালো আছি।’
মমতা ব্রিগেডের সৈনিকের তালিকায় আছেন রিনা এক্কা টোপ্নো। ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা আসনে এবার তিনি তৃণমূলের প্রার্থী। চা বাগানে থাকেন। ছোট ছিলেন যখন, তখন স্কুল ছুটির পর চা বাগানে গিয়ে কাজ করতেন। পেতেন এক কেজি পাতা তুললে ৫০ পয়সা। দারিদ্র তাঁর চিরকালেরই সঙ্গী। তবে জীবনযুদ্ধে হারেননি। চা-সুন্দরী বলয়কে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। বলেন, ‘ভোটে জিতলে চা বাগান বাঁচানো এবং শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষিত করার স্বপ্নই দেখি।’
মমতার সৈনিক তনুশ্রী হাঁসদাও। তিনি এবার বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভা আসনে লড়াই করছেন। বিধানসভা নির্বাচনে পা রাখা তনুশ্রীদেবী শিক্ষাবিদ ও গবেষক। আদিবাসী সমাজ ও সংস্কৃতির মানোন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার প্রগতি ও বিকাশ করতে চাই জঙ্গলমহলজুড়ে।’
মমতার তালিকায় আছেন বাঁকুড়ার রায়পুর বিধানসভার প্রার্থী ঠাকুরমণি সোরেন। তিনিও এবার নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য মুখ। পঞ্চায়েতের কাজকর্মের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। স্বামী প্রাক্তন সেনাকর্মী। কার্গিল যুদ্ধে ছিলেন। ঠাকুরমণিদেবীর বক্তব্য, ‘আমি কাদামাটি মেখে বড় হয়েছি. স্বপ্ন দেখি, আদিবাসী সমাজের আরও উন্নয়ন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী আমি। এলাকার সমস্যার সমাধান করতে চাই।’
মমতার সৈনিকের তালিকায় আছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী ধারা। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সম্মান পেয়েছেন। মহিলা কৃষি সম্মানে সম্মানিত বর্ণালীদেবী সবুজ বিপ্লব ঘটাতে চান। বলেন, ‘কৃষি ও সেচের প্রতি আমার ভালোবাসা। সে কারণে গুজরাত থেকে ছেলেকে চাকরি ছাড়িয়ে এখানে নিয়ে এসেছি।’
নিজের মহিলা সৈনিকদের নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘আমার লক্ষ্মী আজকের দিনে সবারে করে আহ্বান। আমার লক্ষ্মী ক্লান্তি ভুলে গায় জীবনের জয়গান।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ