Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আদালতে যাব, ‘নির্বাচন লুট’ অভিযোগে হুঁশিয়ারি মমতার

‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে মূল্য দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের নামে লুট হয়েছে।’ সরাসরি এই অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আদালতে যাব, ‘নির্বাচন লুট’ অভিযোগে হুঁশিয়ারি মমতার
  • ৭ মে, ২০২৬ ১৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে মূল্য দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের নামে লুট হয়েছে।’ সরাসরি এই অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্যুতে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। ভোট ‘লুটের’ প্রতিবাদ হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন। বুধবার দলীয় বৈঠকে তিনি বলেছেন, ‘আমি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। সেটাও রেকর্ড থাকুক।’

Advertisement

নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এদিন বিকালে কালীঘাটে নিজের বাসভবনে বৈঠক করেন মমতা। দলের বাছাই করা কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। আর ছিলেন তৃণমূলের ৮০ জন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ৭১ জন। বাকি ৯ জন বিধানসভা এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ব্যস্ত বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। 
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়া থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত কী  কী ঘটেছে, দীর্ঘ বৈঠকে মমতা তা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিজেপি সাধারণ মানুষের মত ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হতে দেয়নি। গণনার দিন কারচুপি করেছে বিজেপি। এরপরই মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কাছে সব তথ্য রয়েছে। কোথায় কী ঘটেছে, পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নিয়ে আদালতে যাব।’ তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, একাধিক গণনাকেন্দ্রে দীর্ঘক্ষণ সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। সেই সুযোগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে বিজেপি। কোথাও কোথাও তাঁদের মেরে বার করে দেওয়া হয়। তাছাড়া গণনার সময় দেখা গিয়েছে, ইভিএমগুলির ব্যাটারিতে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ রয়েছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, যেসব মেশিন ভোটের দিন ব্যবহার হল, তারপর স্ট্রংরুমে থাকল তিনদিন, তারপরও কীভাবে ৯০ শতাংশ বা তার বেশি চার্জ থাকে? ভোটের দিন ব্যবহৃত ইভিএম এবং গণনার সময় ইভিএমের সিরিয়াল নম্বর মেলেনি বলেও তথ্য পেয়েছে তৃণমূল। যাবতীয় তথ্য একত্রিত করে নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট এবং সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে তারা। সেই সূত্রেই নেত্রীর বক্তব্য, ‘যেভাবে বিজেপি এই নির্বাচনে লুট চালিয়েছে, তা গোটা দেশ ও বিশ্বের মানুষের জানা উচিত। প্রয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল কোর্টেও যাব।’ বাংলার মানুষের স্বার্থে তাঁকে ফের আদালতে সওয়াল করতে দেখা যাবে বলেও জানিয়েছেন মমতা। 
জেলায় জেলায় ভোট পরবর্তী অশান্তির তথ্যও সংগ্রহ করছে তৃণমূল। তাদের দাবি, সব মিলিয়ে ১৭০০’র বেশি পার্টি অফিসে ভাঙচুর হয়েছে। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে শুরু করে জেলার একাধিক তৃণমূল নেতার বাড়িতে হামলা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের দরজা খোলা রয়েছে।’
এদিকে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন রাজ্যজুড়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করবে তৃণমূল। প্রতিটি কার্যালয়ে ওই দিন রবীন্দ্র সংগীত বাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি সরোজমিনে যাচাই করতে মমতা তিনটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ তৈরি করে দিয়েছেন। ভোটে দলের মধ্যেই কেউ কেউ অন্তর্ঘাত করেছে বলে খবর পেয়েছে তৃণমূল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র, শুভাশিস চক্রবর্তী, ডেরেক ও ব্রায়ানকে রেখে একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মমতা আরও বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে অভিষেক অনেক পরিশ্রম করেছে। কিন্তু দলের কেউ কেউ ওঁর সমালোচনা করছেন। সেটা ঠিক নয়।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ