Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বেচ্ছাচারী বিজেপিকে এবার গোহারা হারাব, তোপ মমতার

স্বৈরাচারী, চোর, ডাকাত, বহুরূপী, ভোট কাটুয়া— এমনই চোখা চোখা শব্দে বিজেপিকে বিঁধলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খোলা মঞ্চ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, যে বিজেপি সাধারণের চোখের জল ফেলেছে, অত্যাচার-হামলা করেছে, তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না বাংলার মানুষ।

স্বেচ্ছাচারী বিজেপিকে এবার গোহারা হারাব, তোপ মমতার
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৪
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী,শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত ও বসিরহাট: স্বৈরাচারী, চোর, ডাকাত, বহুরূপী, ভোট কাটুয়া— এমনই চোখা চোখা শব্দে বিজেপিকে বিঁধলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খোলা মঞ্চ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, যে বিজেপি সাধারণের চোখের জল ফেলেছে, অত্যাচার-হামলা করেছে, তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না বাংলার মানুষ। নির্বাচনি প্রচারে শুক্রবার ঠাসা কর্মসূচি ছিল মমতার। উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর, বসিরহাট, বারাসতে সভা। পরে মেদিনীপুরে পদযাত্রা। সব কর্মসূচিতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে তৃণমূল নেত্রীর কণ্ঠে ছিল প্রত্যয়ী সুর, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাংলার মানুষ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ বঙ্গবাসীর এই সমর্থনকে পুঁজি করেই মমতার ঘোষণা, ‘বিজেপিকে এবার গোহারা হারাব।’

Advertisement

ঘটনাচক্রে মমতা যখন লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছেন তখন বারাসতের কাছারি ময়দানে উপস্থিত হাজারো মহিলারা প্ল্যাকার্ড তুলে জানান দিচ্ছেন—জিতবে বাংলাই। ক্ষণিকের প্রত্যেক খণ্ডচিত্রই বাংলার অগ্নিকন্যাকে আরও বেশি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করে তুলেছে। আঙুল উঁচিয়ে জোর গলায় বিজেপির বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা। বিজেপিকে গোহারা হারাব। বিজেপি বাংলাকে যেভাবে বদনাম করছে, হাড়ে হাড়ে ফল টের পাবে ওরা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপিকে জবাব দিতে হবে। আর ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের পর দেখবেন কেমন খেলা হবে। দিল্লি থেকে পালাতে হবে। বিজেপি নেতারা প্ল্যানিং করে রাখুন, কোথায় পালাবেন। বিচার ওদের হবেই। পাপ বাপকে ছাড়ে না।’ 
নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা যখন ভোট প্রচারে এসে বাংলার প্রতি ‘ভালোবাসা’ দেখাচ্ছেন, ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করছেন, তখন বাস্তব তুলে ধরে গেরুয়া পোস্টার বয়দের নিশানা করেছেন মমতা। বলেছেন, ‘একদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন সোনার বাংলা গড়বেন, অন্য বাংলা ভাষায় কথা বললে অত্যাচার করা হচ্ছে! ওরা বসন্তের কোকিল। সারা বছর দেখতে পাওয়া যায় না। শুধু ভোট এলে আসেন। ওদের সব মিথ্যার ফুলঝুরি। দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছে বিজেপি। সব জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু মানুষের জীবনের দাম কমছে।’ মমতা খবর পেয়েছেন এবং সে ব্যাপারে আরও খোঁজ নিয়ে দেখেছেন যে, ৯০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তার মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ মুসলিম সম্প্রদায়ের। একইভাবে অসমেও ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল। তার মধ্যে ১৩ লক্ষ হিন্দু ও ৬ লক্ষ মুসলিম ছিলেন।  
বাংলার ভোটে জেতার জন্য বিজেপি শুধু ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া ছাড়াও নানা ধরনের চক্রান্ত করছে। এমন কিছু তথ্য তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলা দখল করতে বিজেপি হ্যাংলা হয়ে উঠেছে। সামনাসামনি ভোটে জেতার ক্ষমতা নেই বলে জোর করে ভোট দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভোটের দিনে অনেক মেশিন খারাপ করবে। ওই মেশিনে ভোট হবে না। চিপ ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ওরা। পরে নতুন মেশিন আনবে। এছাড়াও বিজেপির চালাকি হচ্ছে, এলাকায় এলাকায় ভোটারদের আটকে দেওয়ার। পুরোটাই সিপিএমের ভোটিং প্ল্যান। তাছাড়া আমার কাছে গোপন খবর আছে, বাংলার মানুষের নামের জায়গায় অন্য নাম পেস্ট করে দেবে। সেখানে ভোটার তালিকায় বিহার, উত্তরপ্রদেশের লোকেদের নাম ঢোকানো হবে।’ তাই কর্মীদের কাছে মমতার আবেদন, ‘সব ইভিএম ঠিকমতো পরীক্ষা করতে হবে। অসমে ৫০ হাজার লোক বাইরে থেকে ভোট দিয়ে গিয়েছে। তাই ভোটের দিন বাইরে থেকে কেউ ভোট দিতে আসছে কি না, নজর রাখবেন। শেষ পর্যন্ত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ